রাঙ্গামাটি জেলায় সেরা বগাছড়ি পুনর্বাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার দুর্গম বুড়িঘাট ইউনিয়নের বগাছড়ি পুনর্বাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবার জেলায় শিক্ষা ক্ষেত্রে সেরা বিদ্যালয় হিসেবে খেতাব অর্জন করেছে। এ অর্জনে শুধু বিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী বা অভিভাবকরাই খুশি নন, গর্ববোধ করছে পুরো নানিয়ারচরবাসী।

শ্রেণী কক্ষ স্বল্পতা ও দুর্গমতাকে দুর্বলতা না ভেবে বরং শক্তি হিসেবে গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকা পড়ালেখার মানোন্নয়নে যেমন অগ্রনী ভুমিকা রেখেছেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের সামাজিক অবক্ষয়রোধে নানা কর্মসুচি গ্রহণ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানবিক মুল্যবোধ গঠনে রেখেছেন গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা। এসব একদিনের ফসল নয়, শিক্ষক শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সমন্বিত উদ্যোগ ও আন্তরিকতায় দিনে দিনে এ গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সচেষ্ট হয়েছে। তাই তাদের উদ্দীপন ও উৎসাহব্যঞ্জক কর্মকান্ড থেকে চোখ ফেরাতে পারেনি শিক্ষা পদক দেয়া কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়টির নানামুখি কর্মকান্ড বিচার বিশ্লেষনে কর্তৃপক্ষ সেরার খেতাব তুলে দিয়েছেন বিদ্যালয়টির হাতে।

কি এমন করেছে বিদ্যালয়টি? সরেজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাহাড়ের ওপর নয়নাভিরাম বিদ্যালয়টি দাঁড়িয়ে আছে সুন্দরের পুজারি হিসেবে। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষের দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে বাংলা এবং বাংলার বাইরে বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী। যা দেখে দেখে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা শিখছে, উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত হচ্ছে। গোছালো শ্রেণীকক্ষে রয়েছে বুক সেল্প। ওখানে সাজানো রয়েছে শিক্ষনীয় বই আর বই। রয়েছে সততা স্টোর। ছোট বয়স থেকেই সৎ আর সততায় নিজেকে মানিয়ে নিতে এ সততা স্টোর গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে। বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে মনজুড়ানো ফুলের বাগান। যে কারোরই মনে মুগ্ধতা ছড়াবে অনায়াসে।

খেলার মাঠ ছিল না, শিক্ষক শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সমন্বিত উদ্যোগে পাহাড় কেটে খেলার মাঠ করা হয়েছে। খেলার মাঠ পেয়ে ভীষন খুশি শিক্ষার্থীরা। মন খারাপের দিন ভুলে ওরা এখন পড়ার ফাঁকে বিরতিতে মাঠে মেতে থাকে হরেকরকম খেলায়। স্থানীয়দের সহায়তায় চালু করা হয়েছে বছরব্যাপী মিড ডে মিল। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মান বাড়াতে মা, দের উৎসাহিত করতে প্রচলন করা হয়েছে “মাদার অব দা ইয়ার”। রয়েছে “স্টুডেন্ড অব দা মান্থ” ও স্টুডেন্ট অব দা ইয়ার পুরষ্কারও। আর পড়ালেখা আর পাশের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় ইর্ষনীয়।
প্রাপ্তির অপর পিঠে ঠায় দাড়িয়ে আছে সংকটও।

তবে সে সংকট বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি বিদ্যালয়ের প্রাপ্তির ও উন্নতির পথে। বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের একটি পাকা থাকলেও, অপরটি ঝরাজীর্ন। পাকা দালানের ওপরে আটোসাটো একটি কক্ষে জড়োসরো হয়ে শিশু শ্রেনীতে পড়ালেখা করছে একঝাঁক শিশু। বিদ্যালয়ের ঝরাজীর্ন অংশটি সংষ্কার বা পুনঃনির্মান করা গেলে এ অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে আরো গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

নিজেদের আন্তরিকতা, স্বদিচ্ছা ও উদ্যোগের ফলস্বরুপ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা ভীষন খুশি বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকা। যার দিক নির্দেশনা ও সুচিন্তিত কর্ম পরিকল্পনায় এ অর্জন, সেই প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম ভীষণ খুশি ও গর্বিত।

তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সকল নির্দেশনা ও কার্যাবলী যথাযথ ভাবে শতভাগ পালনসহ বিদ্যালয় ভিত্তিক উদ্ভাবনী বিভিন্ন কর্মাকান্ড হাতে নেয়ার কারণে বিদ্যালয়টি জেলায় সেরা অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।