রাজাকারের তালিকায় রাজা অংশৈ প্রু

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযদ্ধের সময় পাহাড়ে ঘেরা বান্দরবান জেলাও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পায়নি। পাহাড়ের ছোট ছোট ঘরগুলোতেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহচর রাজাকারদের চোখ পড়েছিল। পাহাড়ে খুন, গুম, ধর্ষণসহ আরও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে রাজাকাররা। ১৫তম বোমাং রাজা অংশৈ প্রু চৌধুরী বান্দরবানের রাজকারদের শিরোমনি ছিলেন বলে জানান বান্দরবানের সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াব।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে রাজাকার অংশৈ প্রুকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।

গত রোববার (১৫ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতা বিরোধী ১০ হাজার ৭৮৯ জনের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় নাম রয়েছে বান্দরবান বোমাং সার্কেলের ১৫তম রাজা অংশৈ প্রু চৌধুরীর।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াব জানান, বর্তমান সড়ক ও জনপথ অফিসের ঠিক পেছনেই মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা চার পাক সেনাকে গুলি করে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখেন। এই জনপদেও মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। আর বান্দরবানের রাজা অংশৈ প্রু কি করেনি? মুক্তিযোদ্ধাদের খুন, গুম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের রমণীদের ধর্ষণ করতো। অংশৈ প্রুর বংশধরদের অনেকে এসবে জড়িত ছিল।

তিনি আরও বলেন, অনেকে রাজাকারের তালিকায় ঠাঁই পাবে। আর যারা রাজাকারদের খুন গুম, ধর্ষণে সহযোগিতা করেছেন তাদের তালিকা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে।

জানা গেছে, রাজা অংশৈ প্রু চৌধুরী ১৯১৪ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি বোমাং রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। ২০১২ সালের ৮ আগস্ট তিনি ৯৮ বছর বয়সে নিজ বাড়ি বান্দরবানের মধ্যম পাড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর বোমাং রাজার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৮ সালে অংশৈ প্রু চৌধুরী ১৫তম বোমাং রাজা হন। রাজপদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশন পুনর্গঠন, শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসবের ধারাবাহিকতা রক্ষা, রাজদফতরের ভবন নির্মাণ ও আধুনিকায়নসহ বহু সংস্কারমূলক কাজ করেন।

১৯১৫ সালে ১ আগস্ট অংশৈ প্রু চৌধুরী রোয়াডোতে (বান্দরবানকে মারমারা রোয়াডো বলেন) জন্ম নেন। তিনি কলকাতার স্কটিস চার্চ কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার পর ১৯৪৪ সালে তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বতন্ত্র পুলিশ বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রাম ফ্রন্টিয়ার্স পুলিশ ফোর্সে সহকারী পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। পরে পুলিশ বাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে তিনি সমাজ সংস্কারের কাজ করেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদে তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক, সমবায় ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী হন।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।