রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত জটিলতা, অসুবিধা ও অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মুক্ত ভাষা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে শতাধিক শিক্ষার্থী মানববন্ধন করে চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি জানান। তাদের দাবি একটাই, ভোগান্তি নয়, এখনই পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস চাই
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৫ বছর পার হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকট, নিরাপদ পরিবহন না থাকা, আধুনিক ল্যাবের অভাব, পানির সমস্যা—এসবের কোনও সমাধান হয়নি। বিশেষ করে ছাত্রীদের আবাসন সংকট পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,রাবিপ্রবি পাহাড়ের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়; কুচক্রী মহলের মদদে এটির উন্নয়ন আটকে দিয়ে পাহাড়ি অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এসময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘দ্রুত উন্নয়ন কাজ শেষ করুন’ ‘রাবিপ্রবি আমাদের—অধিকারও আমাদের’‘শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস চাই’

ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার হামীম বলেন,১৫ বছরেও শ্রেণিকক্ষ–আবাসন সংকট কাটেনি! উন্নয়ন কাজে ইচ্ছাকৃত বাধা দেওয়া হচ্ছে। এটি ছাত্র সমাজ আর মেনে নেবে না।
ফিশারিজ বিভাগের উম্মে ছালমা লাবণ্য বলেন, পাহাড় মানে পরিবেশবিধ্বংস নয়। যেসব অজুহাতে কাজ থামানো হচ্ছে—তা অযৌক্তিক। উন্নয়নকে আটকে রেখে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় রাখা হচ্ছে।
সি এস ই বিভাগের ইফতেখার বলেন, অবিলম্বে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ না হলে রাবিপ্রবি নয়—পাহাড়ের মানুষ ও রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফিশারিজ বিভাগের জেমি বড়ুয়া বলেন, পাহাড়ের এমন একটি প্রতিষ্ঠান দেখান, যেটি পাহাড় না কেটে নির্মান করা হয়েছে? তিনি বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাধানমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘসূত্রতা আর বরদাশত করা হবে না।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনাকাঙ্খিত এ পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে, প্রয়োজনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।
প্রসঙ্গত: রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণে অনুমোদনের আগে এবং অতিরিক্ত মাটি কাটার অভিযোগে গত ৫ ডিসেম্বর রাঙামাটির কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রাঙামাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম। মামলা দায়েরের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্মাণ কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশ বা পরবর্তী কার্যক্রম না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।



