রামগড়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

খাগড়াছড়ির রামগড়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার ১নম্বর রামগড় ইউনিয়নের থানাচন্দ্র পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৩ মে) বিকেলে ভুক্তভোগীর পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. বেলায়েত হোসেন (৪২)। তিনি একই ইউনিয়নে লামকুপাড়া এলাকার মোঃ নুরুল হুদার ছেলে এবং ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১২ মে ২০২২) বিকেল সাড়ে ৩টার সময় বিদ্যালয় ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ বেলায়েত হোসেন বাড়ির কাজ দেখানোর কথা বলে ঐ ছাত্রীসহ অপর এক ছাত্রীকে ক্লাসরুমে যেতে বলে। পরে অপর ছাত্রীকে ক্লাসে বসিয়ে রেখে ঐ ছাত্রীকে ক্লাসের বাইরে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পাশে নিয়ে শারীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। এসময় ছাত্রীটি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রীটির হাতে একশত টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

বাড়ি যাবার পর ছাত্রীটি বিষয়টি তার মাকে জানালে শুক্রবার (১৩ মে) বিকেলে তার পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে রামগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

মামলার বাদী ছাত্রীর ফুল মালা ত্রিপুরা জানান, মেয়ে স্কুল থেকে ফিরে কাঁদতে কাঁদতে তাকে ঘটনার বিষয়টি জানান। তিনি বেঈমান এ শিক্ষকের কঠোর শান্তি দাবি করেন।

অভিযুক্ত ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা না দিলে ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পাঠাবে না বলে জানিয়েছে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসিরা। এর আগে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক মাটিরাঙ্গায় শিক্ষকতা করার সময়ও একই আচরণ করার দায়ে অভিযোগ আছে বলে জানান স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, রামগড় আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল ত্রিপুরা জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিভাবক (মা) বিষয়টির সম্পর্কে আমাদের জানায়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সহায়তায় শুক্রবার(১৩ মে) ভুক্তভোগী ছাত্রীকে সাথে নিয়ে তার মাসহ রামগড় থানায় শিক্ষক বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রাণী দেবী জানান, বিদ্যালয় ছুটির পর বাসায় পৌঁছার পর সহকারি শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবগত করেন। তিনি বলেন, তাদের স্কুলের প্রায় ছাত্রছাত্রীই ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর। ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় স্কুল কেচ ম্যাপ এলাকার জনগের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে রামগড় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন না। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।