রুমায় নিহত ২ কেএনএ সশস্ত্র সদস্যের পরিচয় পাওয়া গেছে

বান্দরবানের রুমায় গত বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানকালে বন্দুক যুদ্ধে নিহত দুই জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত দুই জন-ই কুকি-চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ‘র সশস্ত্র শাখার কুকি-চীন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)’র সক্রিয় সদস্য।

নিহত একজনের নাম সাংমিন বম (২৮)। সে রুমা উপজেলায় পাইন্দু ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডর মুয়ালপি পাড়া স্থায়ী বাসিন্দা। আরেক জনের নাম, লাল হিম সাং বম (২৫)। রুমা উপজেলায় পাইন্দু ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডর মুননোয়াম পাড়া স্থায়ী বাসিন্দা।

সাংমিন বম, কেএনএ’র ক্যাপ্টেন ও চীফ কালেক্টর। তার পাশাপাশি সংগঠনের নতুন সদস্যও সংগ্রহের দায়িত্বও পালন করছিল। তার পরিবারের সদস্যরা সবাই মিজোরামে চলে গেছে গত বছর।

একটি সূত্র জানায়, সাংমিন বম কেএনএ সদস্য হিসেবে যুক্ত হবার পর তাকে ভারতের মুনিপুরী দেড় মাসের অস্ত্র চালনা কৌশলগত প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

সশস্ত্র গোষ্ঠী কেএনএ ‘কথিত ক্যাপ্টেন সাংমিন বম এর নেতৃত্বে সম্প্রতি পাইন্দু ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জুরভারং পাড়া পার্শ্ববর্তী একটি গহীন জঙ্গলে আস্তানা গাড়তে চেয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতা না পাওয়ায় ওখান থেকে চলে আসে নিজ বাড়ি মুয়ালপি পাড়া পার্শ্ববর্তী এলাকায়, আস্তানা গেড়েছিল- এখানে।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দ্দী বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বম সোশ্যাল কাউন্সিল ও ইয়াং বম অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রুমা সেনা অভিযানের পর সেনাবাহিনী ৩টি এসএমজি, ১টি রাইফেলসহ আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে, এসময় কেএনএ এর এই দুই সদস্য নিহত হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২ ও ৩ এপ্রিল জেলার রুমা ও থানচি উপজেলায় সোনালী ও কৃষি ব্যাংক ডাকাতি, পুলিশ-আনসারের ১৪টি অস্ত্র লুট, ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ ও অর্থ লুটের ঘটনায় রুমা থানায় ১৪, থানচি থানায় ৪, রোয়াংছড়ি থানায় ৩ ও সদর থানায় ১টিসহ মোট ২২টি মামলা করা হয়। যৌথবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের ১২২ জন সদস্য ও সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় যৌথ বাহিনীর অভিযানে কেএনএফ এর অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হয়।

আরও পড়ুন