রুমায় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি

বিনা অনুমতিতে নেতাদের ছবি ব্যবহার

বিনা অনুমতিতে ব্যানারে বান্দরবান জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সদস্য সচিবের ছবি দিয়ে একটি সামাজিক সংগঠন র‌্যালিকে কেন্দ্র করে রুমা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা ঝড় ওঠেছে।

ব্যানারে ছবি নিয়ে প্রশ্ন করায় রুমা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ মিয়া’র সঙ্গে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের উপজেলা আহ্বায়ক পলাশ চৌধুরীসহ তার নেতা-কর্মীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কি ঘটনা ঘটে।

গত শনিবার (৮ নভেম্বর) রুমা বাজারে বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালির চলাকালে এ ঘটনা ঘটেছিল। এ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

বিএনপি’র সমর্থিত এ সামাজিক সংগঠনের কর্মী সম্মেলন প্রাক্কালে র‌্যালিতে এমন তর্ক বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনের তৃতীয় শক্তি ইন্ধন রয়েছে বলে ধারনা করছে অনেকে। যাহা ভাইরাল হওয়া ভিডিও জুম করলে দেখা যায়, র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা অতীতে কোন দলের সমর্থক ছিল, তা সহজেই জানা যায়। এমন কথা জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুবদলের নেতা মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন বলেন, র‌্যালির ব্যানারে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি দেয়া নিয়ে আমাদের বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন করলে তার উপর পলাশ চৌধুরী সহ অন্যান্যরা অকারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ওই র‌্যালিতে কোন প্রকার বাধা দানের বিষয়টি দেখেননি বলে জানিয়েছেন আরিফ।

র‌্যালিতে অংশ নেয়া কেন্দ্রীয় খিয়াং কল্যাণ পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি মংশৈপ্রু খিয়াং বলেছেন- সুশৃংখলভাবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি হচ্ছিল। বাজারে মোহম্মদ ইদ্রিস মিয়া দোকানে সামনে পৌছলে তিনি র‌্যালিটি থামিয়ে ব্যানার টানাটানি করতে শুরু করে। তখন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বাক-বিতণ্ডা বিতর্ক সৃষ্টি হয়, এটুকু বলতে পারি বলে জানালেন তিনি।

NewsDetails_03

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপজেলা আহবায়ক পলাশ চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, সবাই জানেন যে সম্প্রতি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। এ সংগঠনের উদ্যোগে শনিবার সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি আয়োজন করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ র‌্যালিতে পাহাড়ি বাঙালি ১১ টি জাতিসত্তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এটা দেখে বিএনপির নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া তার দোকানের সামনে র‌্যালিটি পৌঁছলে ব্যানারটি টানা হেচরা করে বাধা প্রদান করে।

অনেক বিতর্কের পর আমাদের র‌্যালিটি সুষ্ঠুভাবে রুমা বাজার সহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ শেষে সম্মেলনটি সম্পন্ন করেছে। একজন বিএনপি নেতার এমন আচরণ বিএনপির জন্য ক্ষতিকারক বলে উল্লেখ করেন পলাশ চৌধুরী।

তিনি আরো বলেন, ব্যানারের ছবি দেয়ার আগে জেলার বিএনপির হাই কমান্ড এর সাথে বিভিন্ন ভাবে কথা হয়েছে, তাদের আপত্তি না থাকায় ব্যানারে ছবি দেয়া হয়েছিল কিন্তু বিএনপির হাই কমান্ড এর কারো নাম বলতে পারেননি পলাশ চৌধুরী।

এদিকে যুবদলের নেতা ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ আরিফ উদ্দিন বলেছেন, ব্যানারে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের ছবি থাকার বিষয়টি আমাদের বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিছ জানতে চাইলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক পলাশ চৌধুরী পাল্টা মোহাম্মদ ইদ্রিছ এর উপর ক্ষেপে উঠে। ব্যানার টানাটানি বিষয়টি দেখেননি বলে জানালেন আরিফ।

বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুপ্রু মারমা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পলাশ চৌধুরীর সাথে কথা বলেছেন। তার ভাষ্যমতে, পলাশ চৌধুরীর কর্মী সম্মেলনের ব্যানারে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের ছবি দিয়েছেন। তবে তার সংগঠনের নামে জাতীয়তাবাদী না দিয়ে ছবি দিয়েছেন কেন?, এ প্রশ্নে তাকে পলাশ চৌধুরী জানিয়েছেন, তার কল্যাণ ফ্রন্ট সংগঠনের কমিটির হাই কমান্ড থেকে জাতীয়তাবাদী লিখতে নিষেধ রয়েছে। তাহলে ব্যানারে বিনা অনুমতিতে কেন তাদের বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের ছবি যুক্ত করেছেন, পাল্টা এ প্রশ্ন করলেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুপ্রু মারমা।

তিনি আরো বলেন, একটি সংগঠনের সুশৃংখল ভাবে র‌্যালি চলাকালে তা থানিয়ে প্রশ্ন না করে এর আগে বা পরে যা প্রশ্ন থাকে তখন করা উচিত ছিল। তবে আমাদের বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইদ্রিছ এর বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন তৈরি হতো না বলে উল্লেখ করেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুপ্রু।

এদিকে স্থানীয় নেতা কর্মীরা মনে করছেন, গত শনিবার (8 নভেম্বর) রুমা উপজেলায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের কর্মী সম্মেলনের র‌্যালিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ঘটনায় নিয়ে বিএনপি ঐক্য যাতে ভাঙ্গন সৃষ্টি না হয়, তার জন্য জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন