বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এখনো ঐক্য হয়নি। ফলে আগামী সাংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রচারণা চালানো নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত দুই পক্ষের নানা কর্মসূচি পৃথক ভাবে পালন করতে দেখা গেছে।
তবে বান্দরবান জেলার বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ ওসমান গনি বলেছেন, বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় ভাবে ঘোষনা করার পর, যারা কেন্দ্রীয় ঘোষিত নির্দেশ- আদেশ লঙ্ঘন করবে, তারা বিএনপি’র কর্মকাণ্ডের পরিপন্থী বলে চিহ্নিত হবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে বান্দরবানের রুমায় বিএনপির গ্রুপিং স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়। মাম্যাচিং-জাবেদ রেজা গ্রুপ ও সাচিংপ্রু জেরী অনুসারীদের মধ্যে। বিভক্ত এই দুই গ্রুপ হওয়ায় বিগত ১৬-১৭ বছরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকার সময়ে বিএনপি’র কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচি এক হয়ে আন্দোলন করা যায়নি।
সূত্রমতে, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট এর পর সরকার পট পরিবর্তনের পর দুই গ্রুপ বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদা করে কেন্দ্রিয় বিএনপি’র গৃহীত কর্মসূচি পালন করছে। এরফলে চাঙ্গা হয়ে ওঠে রুমার বিএনপি। তারমধ্যে উভয় গ্রুপ সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন সহ পরিচালনা করতে থাকে- সাংগঠনিক কার্যক্রম। কিন্তু এ পর্যন্ত বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও জেলা বিএনপির ঘোষিত কোন কর্মসূচি রুমা উপজেলায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা একসাথে কোন মিছিল ও সমাবেশ আয়োজনের লক্ষ্য করা যায়নি। কর্মসূচি পালিত হলেও দু গ্রুপের আলাদা আলাদা করে। এ অবস্থায় রুমার বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের দূরত্ব দিন দিন বেড়েছে।
একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছে, গত তিন নভেম্বর ৩০০ আসন বান্দরবানে সাচিংপ্রু জেরীকে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ ঘোষণা পর জেলা বিএনপি থেকে দুই পক্ষের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বিভিন্নভাবে মৌখিক নির্দেশনা আসলেও কার্যত রুমার বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বাহিরে মুখে মুখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা বলা হয়, তবে বাস্তবে ঐক্যবদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় আগামীতে যেকোনো দলীয় কর্মসূচি পালনে ব্যাহত হবে কিনা এবং কোন নির্বাচনেও তৃতীয়পক্ষ সুযোগ নিতে অব্যর্থ চেষ্টার সফল হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
মাম্যাচিং-জাবেদ রেজা’র অনুসারী ও বিএনপির রুমা উপজেলার সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিংসমলিয়ান বম বলেছেন, রুমার বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হলেও কেন্দ্রীয়ভাবে যে কোন কর্মসূচি ও সাংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন তারা।

তবে সাচিংপ্রু জেরীর অনুসারী নেতাকর্মীরা তাদের নেতাকর্মীদের কৌশলে এড়িয়ে চলছেন এমন অভিযোগ তাঁর। তাই বিএনপি’র হাই কমান্ডের নির্দেশনার অপেক্ষা করছেন বলে উল্লেখ করে রুমা উপজেলার বিএনপি সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিছ মিয়া ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুপ্রু মার্মা বলেছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক ব্যতীত অন্য কোনো বিকল্প হতে পারেনা। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষেই কাজ করবেন তারা। তবে রুমার দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং মনোভাব কাটিয়ে ফেলা উচিত বলে মনে করেন তারা।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত ৩০০ আসন বান্দরবানে মনোনীত প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরী অনুসারী রুমার বিএনপির একটি অংশ যার নেতৃত্বে এসময়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় তিনি হলেন থুইসাঅং মারমা।
তিনি বলেছেন, রুমার বিএনপি’র কোনভাবে গ্রুপিং হবে না। ১৫ নভেম্বর আলীকদমে বিএনপি’র গণ সংযোগ পরবর্তী সময়ে যে কোন একদিন উভয় পক্ষের লোকজন তার বাসায় বসে ভুল বুঝাবুঝি বিষয়গুলো নিয়ে বসা হবে। তবে তিনি এখনও দিন তারিখ ঠিক করছেন বলে জানা যায়নি।
বিএনপির রুমা সদর ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ক্যউসিং মারমা বলেন, যতটুকু সম্ভব বিগত ১৬-১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সময়ে বিএনপি’র করে আসছি। ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে ৩০০ আসন বান্দরবানে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণার পর রুমা উপজেলায় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের দূরত্ব আরো বেড়েছে। এটা মিটিয়ে ফেলা উচিত। না হলে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচি পালন ও নির্বাচনে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে চরম ব্যাঘাত এনে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
সাচিংপ্রু জেরী অনুসারী উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি উচহ্লা মার্মা বলেছেন, বিএনপির মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি ও মনমালিন্য করে বসে থাকার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি নিজেরা নিজেরা বসে আলাপ আলোচনা করে একসাথে কাজ করা হবে বলে জানালেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তার নেতাকর্মীদের একাধিক বার বলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক অধ্যাপক মো. ওসমান গনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি সবদিক বিবেচনা করে সুযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সাচিংপ্রু জেরীকে এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করেছেন। এরপর মাঠ পর্যায়ে কিংবা কোথাও দলের মধ্যে বিভাজন বা মতবিরোধ থাকতে পারে না। যারা করেন মতবিরোধ, তারা কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ঘোষিত নির্দেশ আদেশ লঙ্ঘন করেছে বলে চিহ্নিত হবে। কোথাও কোনোভাবে ভুল বোঝাবুঝি বা মনমালিন্য না থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।



