বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে সেনাবাহিনীর বিমেষ অভিযানে কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) কমান্ডারসহ দুই সদস্য নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
আইএসপিআর আরও জানায়, এ সময় সেনাবাহিনী ৩টি এসএমজি, ১টি রাইফেলসহ আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার রুমায় গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সেনাবাহিনীর অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২ জুন রাত ৯টার দিকে সেনাবাহিনীর ৩৬ বীর রুমা জোন সদরের নেতৃত্বে ৩টি টহল দল প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যানবাহনসহ রুমা বাজার ক্যাম্প হতে আনুমানিক ২ কি.মি. পূর্বে লাইরুনপি পাড়া টিওবির উদ্দেশ্যে যায়, এসময় সন্ত্রাসীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। ফলে একই সময়ে মুন্নাম পাড়া ক্যাম্প থেকে আরও একটি টহল দল পলিপ্রাংশা অভিমুখে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে পলিপ্রাংশা ও মুয়ালপি পাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কেএনএফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর অভিযানে কিছু সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে দুইজন কেএনএ সদস্য নিহত এবং একজন কেএনএ সদস্য গুরুতর আহত হয় মর্মে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতদের নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) জিনিয়া চাকমা জানান, দুইজন নিহত ও অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে, লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হবে।
এদিকে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে বান্দরবানের রুমা উপজেলার সুসুং পাড়া থেকে কেএনএফ সংঘাতের কারনে পালিয়ে যাওয়া ১২২ টি বম পরিবার ফিরে এসেছে তাদের নিজ আবাসে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২ ও ৩ এপ্রিল জেলার রুমা ও থানচি উপজেলায় সোনালী ও কৃষি ব্যাংক ডাকাতি, পুলিশ-আনসারের ১৪টি অস্ত্র লুট, ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে অপহরণ ও অর্থ লুটের ঘটনায় রুমা থানায় ১৪, থানচি থানায় ৪, রোয়াংছড়ি থানায় ৩ ও সদর থানায় ১টিসহ মোট ২২টি মামলা করা হয়। যৌথবাহিনীর অভিযানে কেএনএফের ১২২ জন সদস্য ও সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় যৌথ বাহিনীর অভিযানে কেএনএফ এর অন্তত ২৫ সদস্য নিহত হয়।



