রুমায় প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা : একক প্রার্থী দেবে জনসংহতি সমিতি

রুমা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী
আগামী ১০ মার্চ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের রুমায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। কে বা কারা হচ্ছেন দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। এ নিয়ে আলোচনা ঝড় উঠছে চা দোকান থেকে অফিস আদালত পাড়া পর্যন্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীরা ইতোমধ্যে তাদের মনোনয়ন আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জেলা আওয়ামীলীগের কাছে পাঠিয়েছেন তিন প্রার্থী। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উহ্লা চিং মারমা, ২নং রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শৈমং মারমা শৈবং ও বান্দরবান জেলার এ্যাসিস্টেন পাবলিক প্রসিউকিউটর(এপিপি) এ্যাডভোকেট বাসিং থুয়াই মারমা।
এ তিনজনই দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ দিয়ে তদবির চালাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের বান্দরবান জেলার নীতি নির্ধারকদের কাছে গিয়ে লবিংও করছেন তারা। তবে এখনো কেউ মনোনয়ন না পেলেও এই তিন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন নিয়ে পুরোপুরি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
মনোনয়ন প্রত্যাশি এ্যাডভোকেট বাসিং থুয়াই মারমা বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে এলাকার বেকার সমস্যাসহ প্রধানমন্ত্রী তথা পার্বত্য মন্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা থাকবে শতভাগ। তিনি ২০১৪সালে উপজেলা নির্বাচনে হেরে গেলেও আইন পেশায় সরকারি এ্যাসিস্ট্যান পাবলিক প্রসিউকিউটর(এপিপি) হিসেবে নিয়োজিত থাকার সুবাদে আইনী জটিলতার সমাধানে মানব সেবায় কাজ করেন। মূলত; একারণেও এলাকায় তাঁর সমর্থক উল্লেখযোগ্য।
রুমা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শৈমং মারমা শৈবং বলেন, দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি তথা পার্বত্য মন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গিকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে অবহেলিত নেতা ও সাধারণ মানুষের কল্যানে কাজ করা হবে প্রধান লক্ষ্য।
তবে তৃনমূল থেকে কর্মী হয়ে ওঠে আসা এবং টানা দুইবার সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হওয়ায় এলাকার বেশ পরিচিতি রয়েছে। অন্যের মানব সেবা করতে গিয়ে তিনি নিজেও কোনো একসময় লাঞ্চিত হন। একারণে স্থানীয় লোকজনের তাঁর প্রতি সুদৃষ্টি রয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে আ.লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের গোছানোর কাজ করেন।
আ.লীগের সভাপতি উহ্লাচিং মারমা বলেন, দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি। দল যদি সুযোগ দেয়, তবে তৃনমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করবেন। প্রধানমন্ত্র্রী স্বপ্ন পুরণে পার্বত্য মন্ত্রীর দিকে নির্দেশনায় এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের কাজ করবার কথা জানালেন তিনি। ৯৬সাল থেকে এপর্যন্ত দলের দুর্দিন- সুদিনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কখনো যাননি তিনি। ওই সময়ে টানা ১৪বছর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আ.লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নিবেদিত এমন লোককে চান উপদেষ্টা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তবে আওয়ামীগের দলীয় সাধারণ সমর্থকরা এই তিন প্রার্থীতা নিয়ে সরাসরি কারোর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করলেও তারা বলছেন, বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনে(১/১১) দলের দুর্দিনে যারা কর্মীদের পাশে থেকে দলের কান্ডারি দায়িত্ব পালন করেন এমন প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন চায়। কেউ কেউ চাচ্ছেন, দুর্নীতিমুক্ত সাদা মনের সিনিয়র নেতা, আরো অনেকে চান,উচ্চ শিক্ষিত প্রার্থী। এসব অভিমত জানিয়ে বলেছিলেন মোহাম্মদ হাসান মুরাদ ও আগ্যমং মেম্বারসহ আরো অনেক আ.লীগ নেতাকর্মী।
এ উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও নেতাকমীদের মধ্যে অতি উৎসাহ উদ্দীপনায় ব্যস্ততা দেখা দিলেও উদ্ধেগ- উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন বিএনপি,নেই দলীয় কোনো কার্যক্রম। তারা নির্বাচনের বিষয়ে অপেক্ষায় থাকছেন জেলা বা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিক নির্দেশনা জন্য।
উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লুংঙা খুমি বলেন, গত সাংসদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ হয়েছে। তাই বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে কি- করবেনা, তা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি তাদের একক প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেবার লক্ষে কাজ করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে বৈঠকে মিলিত হয়েছে একাধিকবার।
জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মংমংসিং মারমা দলের মধ্যে কোনো বিরোধ না থাকার কথা জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। সুষ্ঠ পরিবেশ থাকলে তাদের একক প্রার্থী আসন্ন নির্বাচনেও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে পূনরায় তাদের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ২০১৪সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, জনসংহতি সমিতি নেতা অংথোয়াইচিং মারমা। তিনি ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক পরিচিত।
এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করা কথা ভাবছেন জর্জ লালটানজুয়াল বুইতিং। তিনি বলেন সমমনা যুব সমাজ ও নির্দলীয় সশীল নেতাদের পরামর্শ নিয়ে তাঁর প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে। সে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সহ-সভাপতি ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রীধারী যুবক।
তাছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বসে নেই ঘরে। তারা এলাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে চষে বেড়াচ্ছেন। এর মধ্যে কেউ আশার বাণী শুনিয়েছেন- নির্বাচিত হতে পারলে শিক্ষা নিয়ে কাজ করবেন। আর কেউ করবেন স্বাস্থ্য ও বেকার সমস্যা সমাধানে। শেষ নেই আশারবাণী।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীও মধ্যে ৪নং গালেঙ্গ্যা আওয়ামীলীগের সভাপতি মার্গারেট ত্রিপুরা, উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি নুম্রাউ মারমা ও বর্তমানে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি জিংএংময় বম।
পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাতজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন প্রণলাল চক্রবর্তী, দিলীপ কান্তি দাশ, উজ্জ্বল ধর, রতন কান্তি দাশ, মীর নাছির উল্লাহ ও ভারত ত্রিপুরা। এ সাতজনই উপজেলা আওয়ামীগের বিভিন্ন পদে তালিকাভূক্ত নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।