রুমায় বমরাম সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন ৫ শতাধিক অতিথি

রুমায় বমরাম সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী বম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে “বমরাম সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি-২০১৮” উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন দেশ-বিদেশী ৫শতাধিক অতিথি।
কাল শুক্রবার (১৮জানুয়ারী) সন্ধ্যায় ৬টায় এক সম্মিলিত উপসনার প্রার্থনা সভা ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুচনা হবে- “বমরাম সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি-২০১৮ উদযাপন”। খ্রীষ্টীয় সুসমাচার প্রচারের শতবর্ষ পূর্তি- উদযাপনের এক সাথে সমাগম হচ্ছে দেশ ও বিদেশের কমপক্ষে পাঁচ হাজার অতিথি। এতে সরকারি উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তা ছাড়াও অর্ধ শতাধিক ধর্ম প্রচারক ও শিল্পী হিসেবে বিদেশি অতিথি আসছেন। রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ১৮-২০জানুয়ারি এই তিনদিন ব্যাপি শতবর্ষ পূুর্তি অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে। তাই প্যান্ডেল তৈরি করে সাজানো হয়েছে সাজ সাজ রবে। এখন রঙ বেরঙের সাজসজ্জায় আলোকিত পুরো মাঠ।
আয়োজন কমিটির সভাপতি পেকলিয়ান বম বলেন, বম জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক তুলে ধরতেই খ্রীষ্টীয় সুসমাচার প্রচারের শতবর্ষ পূর্তির এ ব্যাপক আয়োজন। একসাথে ১০০জনের জাতীয় সংগীত, দলীয় নাচ-গান পরিবেশন ও পবিত্র বাইবেল শাস্ত্র পাঠ করা ছাড়াও পাঁচ হাজার জনের বিশেষ প্রীতি ভোজ ব্যবস্থা-ই বিশেষ আকর্ষণ। এসব নানা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে আয়োজনের মূল কমিটি ছাড়াও আইন শৃঙ্খলা, তথ্য ও প্রচার, সাংস্কৃতিক, এবং আপ্যায়নসহ বিভিন্ন কাজের দায়িত্বে আরো ১৬টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তথ্য ও প্রচার উপ-কমিটি আহবায়ক জর্জি বম জানান, অনুষ্ঠানটি সফল করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশি অতিথির পাশাপাশি অর্ধশতাধিক বিদেশি অতিথি উপস্থিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০১৮সালে ১২ডিসেম্বর শতবর্ষ উদযাপনের কথা থাকলেও সাংসদ নির্বাচন ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নানা কাজে ব্যবস্থা ছিল। ফলে সবাই যাতে অংশ গ্রহণ করতে পারে, সে বিবেচনায় ২০১৯ সালে এসে ১৮-২০জানুয়ারি উদযাপন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরো জানায়, ১৯ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টায় শতবর্ষ উদ্বোধনী বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তা(চট্টগ্রামের জিওসি) প্রতিনিধি) থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত শিল্পীরা পরিবেশন করবেন গান ও মনোজ্ঞ সাংস্ক্রতিক অনুষ্ঠানের ঔতিহ্যবাহী বিশেষ নৃত্য। দুপুরে ৫০০০জনের প্রীতিভোজের আয়োজনের পর সন্ধ্যায় আবারো পবিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ঠিক সেভাবে ২০জানুয়ারি প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের মতো দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য প্রদান এবং সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পুরস্কার বিতরণ ও বিদায়ের শুভেচ্ছা।
এদিকে রুমা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনদিন ব্যাপি অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং অনুষ্ঠানস্থলে সার্বিক অবস্থা জানতে পরিদর্শনও করেছেন বলে আবুল হোসেন উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত: পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বম, পাংথোয়া ও লুসাই জনগোষ্ঠী তাদের পূর্ব পুরুষরা বিশ্বাসে প্রকৃতি পূজারি ছিল। ১৯১৮সালে ১২ডিসেম্বর বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের ৩৪৫নং নোয়াপতং মৌজায় ভাইরেলহ নামক একটি গ্রামে এক শুভদিনে সুসমাচারে প্রচার সুচনা হয়, তবে এ গ্রামটি এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই, যা আজ শতাব্দী পেরিয়েছে। এই বম জনগোষ্ঠীদের মধ্যে সর্ব প্রথম প্রভূ য়ীশু খ্রীষ্টের সুসমাচার প্রচার সুচনা করেছিলেন- মিশনারী রেভা: এড্উইন রোলেল্ডস। তাঁকে স্মরণীয় করে রাখতে বিভিন্ন পাড়া-গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে- মিশনারী রেভা: এড্ইন রোলেল্ডস্ এর প্রতিকৃতি ও ভাস্কার্য।
এ সুসমাচার শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনের মধ্য দিয়ে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের হৃদয়ে ধারণ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে সবার মধ্যে প্রেম, ভালবাসা, সম্প্রীতি প্রসার ও বিকাশ সাধন হবে- এ প্রত্যাশা আয়োজকদের।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।