রুমায় সড়ক নির্মাণ কাজে পাহাড় কেটে বালির পরিবর্তে মাটি

এলজিইডির সাথে সমঝোতা !

বান্দবানের রুমায় কোনো ঝুঁকি নিরুপণ ছাড়াই পাহাড় কাটা চলছে। অবাধে পাহাড় কেটে নেয়া মাটিগুলো রাস্তার নির্মাণ কাজের বালু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)র বাস্তবায়নাধীন কাজে বালু সাদৃশ এক ধরণের মাটিগুলো বালু হিসেবে ব্যবহার করছে। সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলণে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় পাহাড়ের বালু ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বান্দরবানের রুমা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)‘র বাস্তবায়নে ৯৮লাখ টাকার ব্যয়ে রুমা-রোয়াংছড়ি সড়ক থেকে পাইন্দু ইউপি অফিস (পাইন্দু পাড়া) পর্যন্ত রাস্তা কার্পেটিং করণ কাজে বালুর পরিবর্তে ব্যবহার হয়েছে পাহাড়ের মাটি। এ রাস্তায় বালু হিসেবে মাটি নিতে গিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে-ছোটবড় তিনটি পাহাড়। তার মধ্যে পাইন্দু হেডম্যান পাড়া যাওয়া রাস্তায় দুইটি পাহাড় কাটা হয়ে গেছে। অন্যটি রুমা -রোয়াংছড়ি সড়কে চান্দা পাড়ার নামন্তি টার্নি পযেন্টে। ঠিকাদারের লোকজন এসব পাহাড় কেটে মাটি নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

এ প্রতিবেদক গত শনিবার (১৯মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখেন, রুমা-রোয়াংছড়ি সড়কে চান্দা পাড়ায় নামন্তি রাস্তার টার্নিং পয়েন্টে একটি এ্যাসস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটছে। রাস্তার এপার-ওপার দুই দিক থেকে কাটা হয়েছে। পাহাড় কেটে মাটি খুঁড়ে নেয়ায় একটি পাহাড়ের পাশেই সৃষ্ট হয়েছে বড় আকারের গর্ত। সামনে বর্ষা মৌসুমে এ জায়গাটি ধসে পড়ে যানবাহন বাধাগ্রস্ত ও আসা-যাওয়া করতে গিয়ে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের প্রাণ আশঙ্কাও রয়েছে। এখন দিনে দুইটি ট্রাকে করে মাটি নিয়ে গিয়ে পাইন্দু রাস্তায় বিভিন্ন জায়গা জমাচ্ছে।

পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত এসস্কেভেটর চালক আরমান বলেন, বান্দরবানের ঠিকাদার আনোয়ারের অধীনে গত ছয়দিন যাবত এই রাস্তার ধারে মাটি কাটার কাজ করছেন।

ট্রাক চালক জিসান বলেন, মাটি ট্রাকে করে গন্তব্যস্থলে প্রতিদিন ১৫বার নিয়ে যাওয়া যায়। তবে পাহাড় কাটার কাজে কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছেন চালক জিসান। রাস্তাটি সোজা করতে এ টার্নিং পয়েন্টে পাহাড়টি হালকা পাহাড় কাটতে হয়েছে বলেও দাবি করছেন তিনি।

ঠিকাদার হয়ে এ কাজে দেখভালের দায়িত্ব থাকা শহিদুল ইসলাম সাগর নিজেকে সাইট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে দাবি করেন,পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে তাঁর ঠিকাদার কথা বলে ওই পাহাড় থেকে বালু কেনা হয়েছে। তাই এখান থেকে মাটি কেটে রাস্তার কাজে ব্যবহার করছেন।

পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা বলেন, পাহাড় থেকে বালু বিক্রির কথা সত্য নয়। এব্যাপারে পরে কথা হবে বলে আর কিছু বলার অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

ঠিকাদার আনোয়ার বলেন, রুমায় সাঙ্গু নদী থেকে বালু নিতে দিচ্ছেনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তাই এলজিইডির সাথে সমঝোতা করে পাহাড়ের বালু (মাটি) সংগ্রহ করে রাস্তার কাজে ব্যবহার করতে হয়েছে।

রাস্তার কার্পেটিং করণের কাজে দেখভালের দায়িত্বে থাকা রুমার এলজিইডি‘র উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিক বলেন, সবখানে এভাবে চলছে, সেটা সবার অজানার বিষয় নয়। তারপরও কোনো অভিযোগ থাকে, কাজটি বন্ধ করে রাখতে হবে কিনা পরামর্শ দিতে বলেন, আতিক।

রাস্তার নির্মাণ কাজে বালু পরিবর্তে, মাটি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান এলজিইডি‘র সহকারী প্রকৌশলী ও রুমা উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, এ প্রকল্পটি কোথায় ঠিক ধারণা নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ মামুন শিবলী বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বান্দরবানের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এব্যাপারে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।