রুমায় ১ শিক্ষক দিয়ে চলে যে বিদ্যালয়

রুমা উপজেলার সেংগুম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বান্দরবানের রুমা উপজেলার সেংগুম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চরম ব্যাঘাত হচ্ছে। শিক্ষক না থাকায় প্রায় সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে হতাশা।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র উসাইওয়ং ও ওসাইয়ং মারমা বলেন, প্রায় সময় স্কুল বন্ধ থাকে,প্রধান শিক্ষক আসলে ক্লাস হয়। প্রধান শিক্ষক না আসলে আর অন্য কোনো স্যার আসেনা। সমাপণি পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন এ প্রশ্নে এড়িয়ে যায় তারা। অন্য শিক্ষকেরা কোথায় তা কেউ জানে না শিক্ষার্থিরা। গত শনিবার দুপুরে গেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসব পড়ুয়া শিশুদের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।
অভিভাবকরা বলেছেন, ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠাতে বলা হয় আমাদেরকে। কষ্ট করে নিয়মিত সকাল হলে স্কুলে পাঠায়। কিন্তু এখন স্কুল প্রায় বন্ধ থাকে। এভাবে হলে আমাদের সন্তানেরা স্কুলে যাওয়া ও লেখা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে যাবে। এভাবে চললে কিছুই আশা করা যাবেনা মংখ্যাইনু মারমা।
পাড়া প্রধান থোয়াইচিং কারবারী সেংগুম পাড়া সরকারি পাড়া প্রাথমিক বিদ্যারয়টি ১৯৬৫সালে প্রতিষ্ঠিত। এবিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষকের পদবিন্যাস চারজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিবেচকের মত কোনো শিক্ষক না দিয়ে অন্যত্রে শিক্ষক বদলি করে দিয়েছে। এখন প্রধান শিক্ষকের উপর ভরসা একমাত্র ভরসা।
প্রধান শিক্ষক অঞ্জন বড়ুয়া বলেন এ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক থাকলেও তিনজন শিক্ষক এখন কর্মরত নেই। এই তিন জনের মধ্যে সহকারি শিক্ষক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ২০১৭সালের ২৩মার্চ থেকে সংযুক্তিতে বদলি নিয়ে রুমা সদরে ঘোনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন।
বাকি দুইজন সহকারি শিক্ষকের মধ্যে ম্রায়ইউ মারমা গত ১১জুন থেকে মাতৃত্ব ছুটিতে আছেন । অন্যজন হ্লাসিং মারমা চলতি বছর ১জানুয়ারি থেকে বিপিএড প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি একাই চালাচ্ছি।
তিনি বলেন দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে অফিসে যেতে হয়। মাসিক সভা, ক্লাষ্টার সভা ও প্রতিমাসে শিক্ষক প্রশিক্ষণে দু-তিনবার যেতে হয়। মন না চাইলেও শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য। তাছাড়া শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি শিক্ষার্থী নিয়ে সকাল বিকাল দুই শিফট পাঠদান করতে হয়। একি সময়ে একাধিক শ্রেণি কক্ষে পাঠদান কী করে সম্ভব তা আপনারা চিন্তা করে দেখেন।
তিনি আরো বলেন, এবারে পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সাতজন শিক্ষার্থি আছে। তাদের জন্যও চিন্তায় পড়েছেন। প্রশাসনে প্রহসন, আমার কিছু করার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষক না দিলেও সংযুক্তিতে থাকা দেলোয়ার হোসেনকে পুনরায় নিয়ে দিলে হত। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান চালানো যেত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অঞ্জন বড়ুয়া। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সম্পর্কে তিনি বলেন,গত দুই বছরে পিএসসি শতভাগ পাস করেছে এ বিদ্যালয় থেকে। ২০১৬সালে ১০জন, সবাই পাস। ২০১৭সালে ৭জনই পাস করেছে।
শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হবার ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকায় অবস্থানের কথা জানিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার অঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ঢাকা থেকে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে এক সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষক সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা (১৯আগস্ট) কোনো শিক্ষক পদায়ন করা হয়নি।
এদিকে রুমা উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১৫০০বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত দুর্গম গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নে ভরত পাড়া, পাইন্দু ইউনিয়নে পলিতং-বেথেলহেম পাড়া, রেমাক্রীপ্রাংসা ইউনিয়নে ম্রক্ষ্যং পাড়া ও মেনরন পাড়া এবং রুমা সদর ইউনিয়নের প্রংফুংমক পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সসহ ওই ছয়টি বিদ্যালয়ের সংযুক্তিতে একজন করে শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে চলতি বছর জানুয়ারিতে। এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম কাগজ কলমে চালু হলেও বাস্তবে কোনো শিক্ষক কর্মরত নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেমাক্রি প্রাংসা ইউপি চেয়ারম্যান জিরা বম। এ অবস্থায় ওইসব বিদ্যালয়ে শিশু ও প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শতাধিক শিক্ষার্থির শিক্ষা ব্যবস্থা মানোন্নয়নের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা বলেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ি ৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ঘোনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে সংযুক্তিতে একাধিক শিক্ষক পদায়ন করে পুরোদমে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। জেলা পরিষদের অধস্তন বিভাগ হিসেবে এ ছয়টি বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিলে আর কোনো সমস্যা থাকবেনা বলে জানালেন চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।