রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সাড়ে ১০কোটি টাকার প্রকল্প

রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মডেল হিসেবে রুপান্তর করতে বান্দরবানের রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টির উন্নয়নে সাড়ে ১০কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ১৯৮৯সালে ৪ নভেম্বর বিদ্যালয়টি সরকারি করনের পর বিদ্যালয়ের উন্নয়নে এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প। পরিকল্পনা মাফিক গৃহিত এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়টি অবকাঠামো উন্নয়নের আরো একধাপ এগিয়ে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সং¤িøষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাস্তবায়নের জন্য ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের একান্তিক প্রচেষ্টায় প্রস্তাবিত তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আবাসিক ভবন নির্মাণ ও নতুন আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রে আরো জানা গেছে, সাড়ে ১০কোটি টাকার ব্যয়ে রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি অবকাঠামো উন্নয়নের গ্রহিত উপ-প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- আবাসিক নির্মাণ, প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, মাল্টিমিডিয়ায় ডিজিটাল শ্রেণি কক্ষ, শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রীসহ আসবাব পত্র সরবরাহ ও খেলার মাঠ নির্মাণ। এসব কাজ বাস্তবায়নের গুরুত্ব যাচাই-বাছাই করতে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উপ-পরিচালক ড: জাহাঙ্গীর হোসেনসহ দুই কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তখন শিক্ষক মন্ডলী ও জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করা হয়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা দুর্গম ও সুযোগ বঞ্চিত এলাকা হিসেবে বিবেচনায় গৃহিত উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করতে অনুরোধ জানান ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হ্লাসিংনু মারমা সম্প্রতি ‘পাহাড়বার্তা‘কে বলেন, ১৯৮৯সালে ৪নভেম্বর বিদ্যালয়টি সরকারি করণ করা হলেও অবকাঠামোগত উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় অনুমোদিত ও গৃহিত উপ-প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন হলে এবার বিদ্যালয়টি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হবে। তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫অর্জিত হয়না। কিন্তু দুর্গম এলাকা হলেও গত তিন বছরে ফলাফল তেমন খারাপ হয়নি। চলতি বছরে পাসের হার ৮৫শতাংশ।
সূত্র আরো জানায় বিদ্যালয়ে ১১টি পদ বিন্যাস আছে। সাড়ে ৬শত শিক্ষার্থীর পাঠদানে বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত। প্রতিদিন বড়জোর ৪টি ক্লাস বেশি হয়না। একারণে অভিভাবকের টাকা-পয়সা না থাকলেও প্রাইভেট পড়তে হয় বলে বিদ্যালয়ের পড়ুয়া শিক্ষার্থী অনেকে জানিয়েছে।
এদিকে অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকৌশল শাখার সহকারি পরিচালক পাহাড়বার্তাকে জানান, এ বিদ্যালয়টি উন্নয়ন কাজের জন্য সাড়ে ১০কোটি টাকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। চলতি ২০১৬-২০১৭অর্থ বছর থেকে দরপত্র আহবান করে শুরু করা হবে। তাছাড়াও দুর্গম রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নে একটি আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে মহাপরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।