রোয়াংছড়িতে কোটি টাকার ছাত্রাবাস ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ

NewsDetails_01

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে সেলিম এন্ড ব্রাদার্স স্বত্বাধিকারী আরাফাত হোসেন আকাশ নামে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবন নির্মাণের কেসি ঝিরি থেকে উত্তোলিত কাদামাখা বালু, রড ও নিন্মমানের ইট ব্যবহার করে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয়, নয়-ছয় করে বরাদ্দকৃত অর্থগুলো শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের সাথে যোগসাজশে পকেট ভারী করার প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগও আছে এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে তার পরিবর্তে স্থানীয় এলাকার ঝিরি থেকে উত্তোলিত কাদামাখা বালু, নিন্মমানের ইট ও উন্নত মানের রডের পরিবর্তে বাংলা রড দিয়ে কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানের সেসব নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে গড়ে উঠেছে চারতলা ভবন। বারবার কাজের মান ঠিক রেখে কাজ করার জন্য এলাকাবাসী অনুরোধ করেও মেলেনি কোন সুরাহা। গভীর রাতে সেসব নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ চলমান রেখেছে ঠিকাদার। তাছাড়া রোয়াংছড়ি ঝিরি থেকে উত্তোলিত কাদামাখা বালু দিয়ে তিনতলা ভবনের ছাদ ঢালাই দেয়ার পর ধসে পড়ে গেছে বলে এলাকার স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

আরো জানা গেছে, রোয়াংছড়ির উপজেলার স্থানীয়দের শিক্ষা গ্রহনের অন্যতম আস্থা রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। দুর্গম এলাকা থেকে প্রায় ৬শত থেকে ৭শত শিক্ষার্থীরা সেই বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সাধারণ গরীব ঘরের শিক্ষার্থীরা নির্ভরশীল থাকেন এই বিদ্যালয়ের উপর। সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত ছেলে এবং মেয়েরা শিক্ষা আলোর জন্য ছুটে আসেন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে। তাছাড়া বিদ্যালয়টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও শিক্ষা ভবন থাকলেও দীর্ঘ বছর ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণের শিক্ষার্থী থাকলেও কোন ছাত্রাবাস ভবন ছিল না। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে অবকাঠামো উন্নয়ন হিসেবে প্রায় ৪তলায় বিশিষ্ট ভবন ছাত্রাবাস নির্মাণে প্রকল্প পান সেলিম এন্ড ব্রাদার্স স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সে ভবনে নির্মাণ কাজ টেকসই ভাবে না করে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে চলছে ছাত্রাবাস ভবনের কাজ। যার ফলে এলাকাবাসীরা কাজ বন্ধ রাখার জন্য ঠিকাদার আরাফাত হোসেন আকাশকে বলেন।

শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে রোয়াংছড়ির সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস ভবন নির্মাণের প্রকল্প পেয়েছেন সেলিম এন্ড ব্রাদার্স স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যার প্রাক্কলিতমূল্যে প্রকল্প বরাদ্দের ব্যয় ধরা হয়েছে ২কোটি ৩৭ লক্ষ ৭০ টাকা। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরে পাশে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয় বিপরীতে চারতলা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস ভবণের দুতলা ছাদ ঢালাই কাজ শেষ। এখন চলছে তিনতলা ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। ভবনের সামনে স্তুপ করে রাখা হয়েছে স্থানীয় ঝিরির বালু। শুধু বালু নয়, সেখানে নিন্মমানের ইট ও বাংলা রড রাখা আছে। সেসব নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ভবণ নির্মাণের কাজ করাতে ক্ষুদ্ধ ওই এলাকার বাসিন্দারা।

এব্যাপারে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো: নাজিমুদ্দিন সরকার বলেন, ঠিকাদাররা রাতের আঁধারে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মত কাজ করে যাচ্ছে শ্রমিকরা। এই বিষয়ে এখন বললে ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দিবে। আর নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে ঠিকাদার কাজ করছে সেটা অভিযোগ পেয়েছি।

NewsDetails_03

তিনি আরো বলেন,যখন কাজ শেষে চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষর নিতে আসবে তখন ব্যবস্থা নিব। ভবন নির্মাণের কেসি ঝিরি বালু সরবরাহ দিচ্ছেন উঅংম্যা মারমা।

তিনি বলেন, ভবণের নির্মাণের জন্য ঠিকাদার আমার কাছ থেকে প্রতিফুট ৩০ টাকা করে ঝিরির বালু কিনে নিয়েছে। ভবন নির্মাণ কাজে এ পর্যন্ত প্রায় ৮শত ফুট ঝিরির বালু সরবরাহ দেয়া হয়েছে। স্

থানীয় ইউপি সদস্য অংশৈচিং মারমা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ বছর পর বিদ্যালয়ে ছাত্রাবাস একটা পেয়েছি। সে ছাত্রাবাস নির্মাণে ঝিড়ির বালু ব্যবহার না করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার বারণ করেছিল। তবুও ঠিকাদার অগোচরে ব্যবহার করেছেন। তাছাড়া বারবার বারণ করার শর্তেও তিনি কাজ বন্ধ করেনি। এভাবে হলে ভবনটি কখন ধসে পড়বে, সে ভয়ে নিয়ে আছি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লা অং মারমা বলেন, ভবনটি বেইজ করার সময় নিন্মমানের ইট দিয়ে করা হয়েছিল। সে সময় আমি বারণ করে ছিলাম কিন্তু শোনেননি। তাই ভেঙ্গে পুণরায় সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার দাবী জানাচ্ছি।

এব্যাপারে সেলিম এন্ড ব্রাদার্স স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার আরাফাত হোসেন বিকাশ বলেন, ভাই সব ঠিকাছে কাজের মান নিন্মমানের হয়েছে। আর আমি কিন্তু সবার সাথে মিশুক। ভাই এত কিছু নয়, বিকাশ নাম্বার দেন খরচ পাঠিয়ে দিচ্ছি, বলে প্রতিবেদককে প্রলোভন দেখান এই ঠিকাদার।

জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ঠিকাদারকে বলেছি গুণগত মানে কাজ করার জন্য। যদি কাজের মান ঠিক না থাকে তাহলে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, কাজের গুনগত মান নিশ্চিত না হওয়ার কারণে পূর্বেও কয়েকটি নির্মানাধীন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। কাজে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তাহলে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন