রোয়াংছড়িতে মাহা সাংগ্রাইং উৎসব শুরু

নতুন বছরকে বরণ ও পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে পাহাড়ে বসবাসরত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাংগ্রাইং উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছরের ন্যায় বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে মারমাদের সাংগ্রাইং, ত্রিপুরাদের বিষু, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ফুলবিজুর মাধ্যমে আনন্দে মেতে উঠে।

পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব উদযাপনে আজ রোববার (১৩ এপ্রিল ২৫) মারমা সম্প্রদায়ের আয়োজনে বর্ণাঢ্য আনন্দ গণশোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

এই মাহা সাংগ্রাইং ও বৈসাবি উৎসব উদযাপনকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে আনন্দের আমেজ। সাংগ্রাইং উৎসবের মূল আকর্ষণ হচ্ছে মৈত্রী জলবর্ষণ ও জলকেলি বা পানি খেলা অনুষ্ঠান। পাহাড়ে সব সময় ভিন্নরূপে উদযাপন করা হয় আনন্দ উৎসব। এবারের সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের সাংগ্রাইং উৎসব পালনা করা হবে।

তাছাড়া রয়েছে ঐতিবাহী পিঠা তৈরি, ভিক্ষু সংঘকে পিন্ডদান, বুদ্ধ প্রতিবিম্বকে স্নান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা দিকে দেশের মঙ্গলকামনার্থের আনুষ্ঠানিকভাবে হাজার প্রদ্বীপ জালিয়ে প্রার্থনা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণসহ ভিক্ষু সংঘের দেশনা শ্রবণসহ এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

NewsDetails_03

ইতোপূর্বে গতকাল শনিবার থেকে বিভিন্ন খাল ও ছড়ায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে বাহারি রঙের ফুল দিয়ে প্রার্থনা করে বিজু উৎসবের আনুষ্ঠানিকতার শুভ সূচনা করে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়রা। যেটি ফুলবিজু নামেও পরিচিত। পুরানো বছরের দু:খ, গ্লানি ও মুক্তির জন্য গঙ্গা দেবতার উদ্দেশে ফুলভাসিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের মাধ্যমে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনা করেন বিভিন্ন বয়সী নর-নারী।

এদিকে রোয়াংছড়িতে বসবাসরত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসুথ আজ থেকে শুরু হয়েছে। ১১টি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পোশাকে দলবদ্ধ হয়ে নানা বয়সী ত্রিপুরা নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে পূজায় অংশ নেন। প্রতিটি গ্রামে গরয়া নৃত্য দল তাদের পরিবেশনা করেন,চলে অতিথি আপ্যায়ন।

এই মাহা সাংগ্রাইং উপলক্ষ্যে শুভ সূচনাতে মারমাার সম্প্রাদয়ের বর্ণাঢ্য র‌্যালির ও আনন্দ গণশোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মনজুর হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অংশৈমং মারমা, আলেক্ষ্যং ইউপি বিশ্বনাথ তঞ্চঙ্গ্যা, উৎসব উদযাপন পরিষদে আহ্বায়ক ও রোয়াংছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা’সহ আরো অনেকে।

এসময় পাহাড়ের বসবাসরত হাজাররো আদিবাসী নারী-পুরুষরা নিজস্ব বিভিন্ন পোশাক ও ঐতিহ্যবাহী পরিচ্ছদ নিয়ে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উসারা লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন