রোয়াংছড়িতে লিন প্রকল্পের অর্থ নয় ছয়ের অভিযোগ

এনজিও নামা

পার্বত্য চট্টগ্রামের অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত ও অপুষ্টিকর জনগোষ্ঠীদের স্বাস্থ্য সেবাদান ও জনজীবন এর মান্নোয়নের লক্ষ্যে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ইউরোপিয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বেসরকারি সংস্থা কারিতাস কর্তৃক লিন প্রকল্পের আওতায় নিউট্রিশন বিষয়ে রোয়াংছড়ি, তারাছা, আলোক্ষ্যং ও নোয়াপতং সহ ৪টি ইউনিয়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বরাদ্দের টাকা নয়-ছয়, ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হয়েছে বলে উপজেলা সমন্বয়ক মো.ইয়াহিয়া আহমেদ বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা কারিতাস কর্তৃক লিন প্রকল্পের আওতায় বিগত (৫ জানুয়ারী ২০২২) রোয়াংছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক হিসেবে যোগদান করেন মো. ইয়াহিয়া আহমেদ। রোয়াংছড়িতে যোগদানের পর থেকে লিন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সভা, কর্মশালা কর্মসূচীতে বরাদ্দ অর্থগুলো অফিসের নিয়মনীতি অনুসরণ না করে লোপাট করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, লিন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সভা ও কর্মশালাতে ৬০-৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি সে বরাদ্দ অর্থকে তিন ভাগের এক ভাগ খরচ করে অবশিষ্ট দুই ভাগ অর্থ নিজে হাতিয়ে নেন। এ বরাদ্দ এর বিষয়ে অফিসের অন্য কর্মচারীরা মুুখ খুলতে চাইলেও বিভিন্ন কায়দায় তাদের জিম্মি করেন। পূর্বে দায়িত্ব থাকা জ্যোতিচন্দ্র ত্রিপুরা অন্যত্র যাওয়ার পরে রোয়াংছড়ি উপজেলা সমন্বয়ক হিসেবে যোগাদান করেন ইয়াহিয়া আহমেদ। প্রতিটি কর্মসূচীতে ১৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার পর্যন্ত বরাদ্দ থাকে। বিভিন্ন কর্মসূচীতে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের দৈনিক সম্মানী ভাতা থাকলেও সম্মানী ভাতা না দিয়ে নামমাত্র ভাতা প্রদান করেন। যাতায়াত ভাতা প্রদানের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীকে টাকার পরিমাণ না দেখিয়ে খালি বিল কাগজের স্বাক্ষর নিয়ে যে যার মত কিছু টাকা প্রদান করা হয়।

এই ব্যাপারে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, গেল ফেব্রুয়ারী মাসে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় অংশ নিতে গিয়ে এক সাথে দুইটি সভা দেখানো হয়েছে এ লিন প্রকল্ল থেকে। যার তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারী এবং ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২২।

এলাকার সংশ্লিষ্টরা বলেন, স্থানীয়দের নিয়োগ না করে বহিরাগতদের নিয়োগ দিয়ে কাজ করায় এমন সমস্যা হয়েছে।

এছাড়া আরো জানা যায়, ২২ ফেব্রুয়ারী হতে ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ইং পর্যন্ত দুইদিন ব্যাপী মারাত্বক তীব্র অপুষ্টি ও মাঝারি তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ এর সিডিউলের নির্দিষ্ট সময় বিকাল ৪টা পর্যন্ত থাকলেও সে দিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সভা মিলনায়তনে অর্ধ দিবস প্রশিক্ষণ দিয়ে সমাপ্ত করে দেন। পরে প্রশিক্ষণের অর্থ দিয়ে বনভোজন করা হয়েছে। এই অর্ধ দিবসের প্রশিক্ষণের বরাদ্দ টাকা থেকে খরচ করা হয়েছে মাত্র ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বাকি টাকা আত্মসাথের অভিযোগ উঠে মো. ইয়াহিয়া আহমেদের বিরুদ্ধে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শান্তিজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বিগত ২২ হতে ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সভা মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশিক্ষণটি দুই দিন থাকলেও দিনের অর্ধ দিবসের মধ্যে শেষ করা হয়েছে। পরে অর্ধ দিবস প্রশিক্ষণের টাকা দিয়ে বনভোজন আয়োজন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ ছিল।কিন্তু এ প্রশিক্ষণটি অর্ধ দিবস করে শেষ করেছে,এটা ঠিক করেননি। আর যারা প্রশিক্ষক আছেন তাদের সম্মানী ভাতা সরকারী গ্রেডের নিয়মনুযায়ী সম্মানী ভাতা প্রদানের নিয়ম থাকলেও তা পালন করা হয়নি। যারা প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাদের দুই দিনের প্রশিক্ষণ স্বাক্ষর নিয়ে একদিনের ভাতা দেওয়া হয় মাত্র ১হাজার ৬৮০টাকা। আমাকে ২ হাজার টাকা দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা ডা: মংহ্লাপ্রু মারমা বলেন, উপজেলা নিউট্রিশন কমিটিতে আমি সদস্য সচিব হিসেবে আছি। লিন প্রকল্প কর্মসূচীর প্রশিক্ষণটি গত ২২ও ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে আমার অফিসে করেছে। অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণটি করার কথা থাকলেও একদিনে শেষ করেছে। প্রশিক্ষণ শেষে আমাকে সম্মানী ভাতা হিসেবে ৩,২০০টাকা দিয়েছে।

উপজেলা সমন্বয়ক মো.ইয়াহিয়া আহমেদ সমস্ত কর্মসূচীর ব্যাপারে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমিও আয়োজক (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে) প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বিশ্বাস করে অত্যন্ত ভুল করেছি। আমাদের লিন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দের টাকা থেকে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ছিল। দুই দিনের বরাদ্দ টাকা ছিল ৭২ হাজার টাকা। তার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। স্থাানীয় ও হাসপাতালে স্টাফ সহ ৪৫জন অংশকারীদের ভাতা দেওয়া হয়নি, তাদের ২শত থেকে ৪শত করে যাতায়াত ভাতা দিয়েছি।

বান্দরবান জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবাত ত্রিপুরা বলেন, প্রতিটি সভা ও প্রশিক্ষণে বরাদ্দ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের লিন প্রকল্পের বিভিন্ন ইভেন্টের ৫০ হতে ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ থাকে। তবে আপনি আমার ছোট ভাইয়ের মতো, এই বিষয়কে ঝামেলা না করে বান্দরবান জেলা অফিসের এসে কথা বললে খুব ভালো হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।