
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ে যোগাযোগ বিছিন্নতার কারণে দুর্গম এলাকায় বসবাস করা মানুষগুলো ব্যবসা বাণিজ্য করার কোন সুযোগ সুবিধা না পেলেও, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে দ্রুত প্রসার হতে থাকে ব্যবসা বাণিজ্য। ফলে অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছলতা ফিরছে রোয়াংছড়ির পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর পরিবারে।
স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক চসিংমং মারমা বলেন, আমরা দুর্গম এলাকার বসবাস করছি, আগে আমাদের এলাকার রাস্তা ঘাট ভালো না হওয়ায় কৃষি পণ্য সময় মতোই বিক্রি করতে না পারার কারনে বেশি ক্ষতি হতো। আমাদের এলাকাতে কোন ফাড়িয়ারা ও আসতোনা। এখন সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের কারনে ফাড়িয়ারা ন্যায্য মূল্য দিয়ে পণ্য ক্রয় করে নেন।
১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর থেকে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে, বর্তমানেও উন্নয়ন কাজ চলছে। পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এর সুযোগ্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বে কারণে বদলে গেছে রোয়াংছড়ি উপজেলা, এমন মনে করছে স্থানীয়রা।
এই ব্যাপারে কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো: মনজুরুল আলম পাহাড়বার্তাকে বলেন, প্রায় ৮ বছর পূর্বে রাস্তা ঘাট না থাকায় এলাকার মানুষের ব্যবসা করার মতো কোন সুবিধাজনক ব্যবস্থা ছিল না। তবে বর্তমান সরকার আসার পর এমন ভাবে উন্নয়ন হয়েছে, পাহাড়ী এলাকার যে দিকে তাকায় সে দিকে উন্নয়নের ছোঁয়া দেখতে পাচ্ছি। পাহাড়ে প্রান্তিক কৃষকরা যে কৃষিপণ্য উৎপাদন করছে তা আমরা ন্যায্য মূল্য দিয়ে ব্যবসার জন্য জেলার বাইরে নিতে পারছি।
আরো জানা গেছে, স্থানীয়দের সুবিধার্থে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, কালভার্ট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্রীজ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন,উপজেলা টাউন হল ও রাস্তাঘাটসহ দুর্গম এলাকার বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে বীর বাহাদুর (উশৈসিং) এমপি।
আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ তংঞ্চঙ্গ্যা পাহাড়বার্তাকে বলেন, এ সরকারের আমলে একজন সুযোগ্য নেতা বীর বাহাদুর এমপি’র আন্তরিকতায় রোয়াংছড়ি উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল,কলেজ,ব্রীজ, কালভার্ট, সড়ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এদিকে ব্রীজ, কালভার্ট ও রাস্তার উন্নয়নের ফলে যাতায়াত সুবিধার কারনে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছেলে মেয়েরা প্রতিনিয়ত স্কুলে গিয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছে এবং দুর্গম পাহাড়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরছে।
রোয়াংছড়ি এলজিইডির অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত মো: জিল্লুর রহমান পাহাড়বার্তাকে বলেন,উন্নয়নের কথা বললে শেষ হবে না, টানা ৯ বছরে রাস্তা,কালভার্ট ও স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মান করা হয়েছে, তা অর্থের অংকে হিসেব করতে গেলে অনেক সময় লাগবে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছতলী সড়কের উন্নয়নে প্রায় ২কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।



