লকডাউনে ম্লান বান্দরবানে সাংগ্রাই উদযাপন

বান্দরবানে বসবাসরত মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে আকর্ষনীয় উৎসব হলো সাংগ্রাই। পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে নানা আয়োজনে কয়েক দিনব্যাপী জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হয় নানা অনুষ্ঠান। তবে করোনা আর লকডাউনে গত বছরের মত এবারে ও ম্লান হয়ে গেছে সাংগ্রাই উদযাপন। আর এই উৎসব উদযাপন করতে না পারায় ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টিদের পাশাপাশি বাঙ্গালী ও পর্যটকদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

বান্দরবানে বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির মধ্যে চাকমারা বলে বিজু, মারমা-রাখাইনরা বলে সাংগ্রাই, তংচঙ্গ্যারা বলে বিষু আর এসব কিছুর সংমিশ্রণে পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করার উৎসবের নামই হলো বৈসাবি।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পহেলা বৈশাখ বাঙ্গালীরা এক নিয়মে পালন করলেও বান্দরবানে পালন করা হয় ভিন্ন ভাবে। কয়েক দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি, জলকেলি, পিঠা তৈরি, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাসহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলায় উৎসবে রঙ্গিন হয়ে ওঠে বান্দরবান। বান্দরবানের এমন জমকালো উৎসবে যোগ দিতে প্রতিবছরই বেচা বিক্রি বাড়ে স্থানীয় দোকানগুলোতে। নতুন বছরের আগমনকে বরণ করতে তাই বাঙ্গালীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের জনসাধারণ কিনে নেয় নতুন নতুন কাপড়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি ধর্মীয় নানান সামগ্রী। তবে করোনার প্রভাব আর লকডাউনে বান্দরবানের বেশিরভাগ দোকানগুলো এবার ক্রেতাশুন্য।

বান্দরবানের মধ্যমপাড়া হ্লা হ্লা মার্কেটের ব্যবসায়ী মো.ফরহাদ বলেন, করোনা আর লকডাউনে আমাদের বেশ ক্ষতি হয়েছে, গতবছর এসময়টা লকডাউন ছিল আর এবার করোনা প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আবার লকডাউন চলছে আর এতে মার্কেটে ক্রেতা কম হওয়ায় বেচাবিক্রি কম।

বান্দরবানের শৈ এন্ড ওয়া বার্মিজ মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. হেলাল জানান, আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির উৎসব উপলক্ষে কয়েক লক্ষাধিক টাকার নতুন মালামাল দোকানে বিক্রির জন্য মজুদ করেছি, মনে করেছিলাম গত বছরের ক্ষতি কিছুটা এবারের উৎসব উপলক্ষে বিক্রি করে সামলে নেব তবে করোনায় আমাদের সব শেষ।

এদিকে গত বছরের মত এবারও পরিবার পরিজন নিয়ে বৈসাবির জমকালো আয়োজন উদযাপন করতে না পারায় হতাশ ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি সম্প্রদায়ের জনসাধারণ। জেলা সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান য়ইসা প্রু মারমা বলেন, আমরা নতুন বছর উপলক্ষে গতবারের মত এবার ও মজা করতে পরবো না কেননা কোভিড ১৯ সারা পৃথিবীতে ২য় ডেউ ছড়াচ্ছে আর তার প্রভাব থেকে আমরা কেউ মুক্ত নয়।

বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান য়ইসা প্রু মারমা আরো বলেন, কোভিড ১৯ কেটে গেলে হয়তো আগামী বছর আরো জাঁকজমকভাবে আমরা আমাদের এই সাংগ্রাই ব্যাপক আয়োজনে উদযাপন করবো।

মূলত বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টিদের মধ্যে মারমা সম্প্রদায়ের জনসাধারণ বেশি হওয়ায় এখানে সাংগ্রাই উদযাপন উপলক্ষে প্রতিবছর

সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে নেয়া হয় বর্ণাঢ্য আয়োজন, তবে গত বছরের মত এবারেও নানা আয়োজন না থাকলে ও শুধু ধর্মীয় কর্মকান্ড সম্পাদন করার কথা জানান উৎসব উদযাপন কমিটি।

বান্দরবান সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটি ২১এর সাধারন সম্পাদক শৈটিংওয়াই মারমা বলেন, করোনার কারণে এবারও গতবছরের মত কোন জমকালো আয়োজন বান্দরবানে হবে না তবে শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রার্থনা আর ধর্মীয় রীতিনীতি সম্পাদন করা হবে।

সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটি ২১ এর সাধারন সম্পাদক শৈটিংওয়াই মারমা আরো বলেন, করোনার জন্য আমরা সবাই সতর্ক রয়েছি, তাই প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এবারে বান্দরবানে কোন আয়োজন হবে না।

মহামারি করোনা এইবারের পাহাড়ের বৈসাবি উৎসবের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে তবে পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপ কমে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।