লামায় গরু চুরির অভিযোগে ৬ জন আটক

৪ গরু ও উদ্ধার ৮৯ হাজার টাকা

NewsDetails_01

বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভা এলাকা থেকে গরু চোর সিন্ডিকেটের ৬ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে পৌরসভা এলাকার লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি চোরাই গরু সহ নগদ ৮৯ হাজার টাকাও উদ্ধার করেন আলীকদম থানা পুলিশ। একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন লামা ও আলীকদম উপজেলার গরু মালিকরা।

সূত্র জানায়, গত সোমবার (২৯ মে) দিনগত রাতে আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ফুটের ঝিরি পাড়ার বাসিন্দা কৃষক খাইরুল বশর ও ইউনুসের খামার বাড়ি থেকে ৪টি গরু চুরি হয়। পরে গরুর মালিকরা চুরির ঘটনায় মঙ্গলবার (৩০ মে) আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে আজ বুধবার সকালে (৩১ মে) পুলিশের উপ-পরিদর্শক রেজোয়ানুল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লামা পৌরসভা এলাকার লামামুখ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় চুরি যাওয়া গরুগুলো লামা পৌরসভার রাজবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী আহমদের ছেলে মো. রাসেল ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন বলে জানতে পারেন পুলিশ।

এক পর্যায়ে মো. রাসেলকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ৫ চোর সদস্যের হদিস বের করে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্য ৫ চোর সদস্যকে আটক করেন।

NewsDetails_03

আটকরা হলো- আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ফুটেরঝিরির বাসিন্দা নুরুল হোসাইনের ছেলে মো. বাদশা, ছাহেল আহমদের ছেলে মো. আবদুল শফি, মো. বাদশা মিয়ার ছেলে মো. মিজান, রেপারপাড়ি বাজার পাড়ার বাসিন্দা মো.শহীদুল্লাহর ছেলে মো. অমিত হাসান, লামা পৌরসভা এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোওয়াবের ছেলে নুরুল ইসলাম প্রকাশ আতিক। চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার ও চোর আটকের অভিযানে লামা থানা পুলিশ সহায়তা করেন বলে জানান, আলীকদম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রেজোয়ানুল ইসলাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে আলীকদম ও লামা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়ার প্রান্তিক কৃষকের গোয়াল ঘর থেকে প্রায়শই হালের বলদ চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে কৃষকরা। গরু চোর চক্রটি মায়ানমারের গরু বলে চুরি করা দেশীয় গরুগুলোও দিব্যি নিয়ে যাচ্ছে অন্য জেলায়। চুরির বিষয়ে উপজেলাগুলোর বিভিন্ন পাড়ায় গরুচোর থেকে সাবধানে থাকতে মসজিদের মাইকে সার্বক্ষনিক সতর্ক করা হচ্ছে। বিগত বছর খানেক ধরে মায়ানমার সীমান্তবর্তী আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ি পথে বিদেশি গরুর চোরাচালান ছিল অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন। সর্ব মহলের দৃষ্টি যখন বিদেশি গরুর দিকে, ঠিক তখনই সেই স্রোতে মিশে যায় প্রান্তিক কৃষকের গোয়ালের গরুগুলো। পুলিশ কর্তৃক আটককৃত সর্ব শেষ এই চারটি গরু প্রমান করে, এর আগে কত কৃষকের কপাল পুড়েছে এই গরু চোর চক্রটির উৎপাতে। বিষয়টি স্থানীয় কৃষক ও খামারিদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে বলে জানান, নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কফিল উদ্দিন।

তিনি বলেন, এর আগে ৫ মে জনৈক মৃদুল দে’র গোয়াল ঘর থেকেও একটি গরু চুরির ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলীকদম থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার বলেন, এ ঘটনায় আটক ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন