লামায় গ্রীণ ভ্যালি প্লান্টেশন থেকে হাজারো গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

১৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আমেরিকান প্রবাসী নুরুল হুদার মালিকানাধীন ‘গ্রীন ভ্যালি প্লান্টেশন’ নামের একটি রাবার বাগান থেকে ফের চুরি করে বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ চুরি করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিনে ১ হাজার গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

বাগানের সাবেক কেয়ার টেকার ছরোয়ার আলম চৌধুরী প্রকাশ বাবু এসব গাছ কেটে বিক্রি করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকের পক্ষে বর্তমান বাগান কেয়ারটেকার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এ অভিযোগ করেন।

এর আগেও ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু এ বাগান থেকে জোর করে ৩৪ বছর বয়সী ৬০টি গর্জন ও রাবার গাছ কেটে বিক্রি করে দেন। বাগানটি বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা সদর ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন মিয়াজবাড়ী এলাকায়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বাগানের সাবেক কেয়ার টেকার ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু, তার ভাই সাজ্জাত হোসেন ও স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ঝন্টু নাথের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন বাগানের বর্তমান কেয়ার টেকার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। অভিযুক্ত ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ববড় ঘোনার বাসিন্দা আলা উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।

অভিযোগে জানা যায়, লামা মৌজার মিয়াজবাড়ী এলাকায় নুরুল হুদা নামের এক ব্যক্তির ৩৫ একর রাবার ও ৩য় শ্রেণীর জমি রয়েছে। নুরুল হুদা এ জায়গায় বহু অর্থ ও কায়িক শ্রমে রাবার ও গর্জন গাছের বাগান সৃজনসহ সেমিপাকা টিনসেড ও দোতলা বিশিষ্ট বাংলো ঘর নির্মাণ করে ভোগ করে আসছেন। বাগানটির নাম দেন ‘গ্রীণ ভ্যালি প্লান্টেশন’। পরে বাগান মালিক প্রতিষ্টানটি দেখাশুনার জন্য ছরোয়ার আলম চৌধুরী প্রকাশ বাবুকে নিয়োগ দেন। কিন্তু ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু বিশ্বাস ভঙ্গ করে বাগানের গাছ বিক্রিসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে বাগান মালিক গত মাসে ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবুকে কেয়ারটেকার পদ থেকে অব্যাহতি দেন। এতেও থেমে যায়নি ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু, তার নেতৃত্বে আরও ১০-১২জন সংঘবদ্ধ হয়ে সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ বাগান থেকে ৩৩ বছর বয়সী ৩০টি লালি ও ৯শ ৭০টি রাবার গাছ কেটে স্থানীয় ঝন্টু নাথ নামের কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। যার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। খবর পেয়ে ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবুকে গাছ কেটে বিক্রিতে বর্তমান কেয়ারটেকার বাধা দিলে খুন করে লাশ গুম করা হুমকি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিলও তিনি বাগান থেকে ৩৩ বছর বয়সী ৪০টি গর্জন ও ২০টি রাবার গাছ কেটে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায়ও মামলার পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় তার বিরুদ্ধে। পরে জামিনে বের হয়ে আবারও চুরি করে গাছ কেটে বিক্রি করার কাজে লিপ্ত হন ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু।

NewsDetails_03

সরেজিমন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ১২-১৪ জন শ্রমিক করাত দিয়ে গাছ কাটছেন। কেউ কেউ আবার কেটে ফেলা গাছগুলো গাড়ি বোঝাই করছেন। এ সময় কথা হয় গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক নজরুল ইসলাম, স্থানীয় আব্দুল্লাহ, নুর হোসেন, আনোয়ার, জয়নাল ও আব্দুল আজিজসহ অনেকের সাথে। তারা জানান, নুরুল হুদার বাগানের সাবেক কেয়ারটেকার ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু তাদেরকে দৈনিক মজুরীতে গাছ কাটার জন্য নিয়োগ করেছেন। তাই তারা গাছ কাটছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাঠ ব্যবসায়ী ঝন্টু নাথ জানান, ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু আমার কাছে প্রতি গাড়ি গাছ ৮ হাজার টাকা হারে বিক্রি করেছেন, আমি টাকা দিয়ে গাছ কিনেছি। এখানে আমার কি দোষ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু বলেন, বাগান মালিকের ছেলে শামস মুহাম্মদ সালা উদ্দীন সাথে আমার সমঝোতার কথা চলছিল, কিন্তু মালিকের পক্ষ নিয়ে ঈদের আগে আমার অনুপস্থিতিতে মোজাম্মেল হক বাগানের গাছ কেটে নিয়েছেন কেন, তা আমার বোধগম্য নয়। তার বিরুদ্ধে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রমাণও আছে।

এদিকে ভুক্তভোগী বাগান মালিকের ছেলে শামস মুহাম্মদ সালা উদ্দীন অভিযোগ করে জানায়, না জানিয়ে ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু অতীতেও একাধিবার বাগানের গাছ কেটে বিক্রিসহ নানা অনিয়ম করেছেন। তাই বাবুকে কেয়ারটেকার দায়িত্ব থেকে বাদও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি আবারো বাগান থেকে ১ হাজার গাছ কেটে নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আমার বাগান ও প্রাণ রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান,‘গ্রীন ভ্যালি প্লান্টেশন’ থেকে ছরোয়ার আলম চৌধুরী বাবু কর্তৃক চুরি করে গাছ বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন