বান্দরবানের লামা উপজেলায় আদালতের জব্দের নির্দেশনা অমান্য করে জব্দকৃত গর্জন কাঠ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লামার মেরাখোলা এলাকা থেকে আদালতের নির্দেশে সব কাঠ জব্দের দায়িত্বে ছিলেন এসআই আলমগীর চৌধুরী। কিন্তু মামলার আলামত হিসেবে থাকা মোট ৬৩ টুকরা গর্জন কাঠের মধ্যে মাত্র ৩৯ টুকরো জব্দ দেখান তিনি। বাকি ২৪ টুকরো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৮২ হাজার টাকা। এমনকি কাঠগুলো গাড়িতে করে স্থানীয় করাতকলে নামানো হয়,পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে ওসি তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থলে যান। করাতকল থেকে কাঠগুলো থানায় নিয়ে আসেন। তবে মেরাখোলা রাস্তায় ও বাগানের আশেপাশে আরও অনেক কাঠের টুকরো দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা ছিল সব কাঠ জব্দ করার, কিন্তু বাস্তবে এসআই আলমগীর চৌধুরী কিছু কাঠ জব্দ দেখিয়ে বাকিগুলো গোপনে বিক্রি করার জন্য করাতকলে নিয়েছেন।
গাছ কাটা মামলার অভিযুক্ত আসামি মো. মাহাবুব বলেন, দুই গাড়ি কাঠ থানায় আসার কথা থাকলেও একটি গাড়ি থানায় পৌঁছায়নি। পরে জানা যায়, সেটি করাতকলে নামানো হয়। আমি প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হবে বলে আমাকে হুমকি দিয়েছেন এসআই।

দীর্ঘদিন ধরে নুরুল হুদা, বিলু ইসলাম ও সরোয়ার আলম চৌধুরীর মধ্যে জমি ও কাঠ নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বিলু ইসলামের বাগানে কাঠ কাটা ও হুমকির ঘটনায় মামলা হলে আদালত সব কাঠ জব্দের নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত এসআই আলমগীর চৌধুরী কাঠ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কয়টি কাঠ জব্দ করব সেটি আমার এখতিয়ার। আমি আদালতকে যা দেব সেটিই গ্রহণ করবে। জব্দকৃত কাঠবোঝায় গাড়ি করাতকলে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাড়ি করাতকলে কিভাবে গেল আমি জানি না।
এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে জব্দ করা কাঠ করাতকলে নেওয়ার নিয়ম নেই। কেন এমনটি ঘটেছে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ কাউসার বলেন, এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



