লামায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে চলছে অবাধে পাহাড় কর্তন
বান্দরবানের লামা উপজেলায় এবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে এক সাবেক মেম্বারের বিরুদ্ধে অবাদে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সাহাব আলী জেলার লামা উপজেলার আজিজ নগর ইউপির পূর্ব চাম্বি এলাকার সাবেক ওয়ার্ড সদস্য।
স্থানীয়রা জানান, লামা উপজেলার আজিজ নগর ইউপির পূর্ব চাম্বি ডিগ্রী খোলা স্কুলের দক্ষিণ পাশে সাহেব আলীর বেশ কিছু পাহাড়ি জমি আছে। এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ১ সপ্তাহ ধরে এসব পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে রুপান্তর করছে। এরই মধ্যে অন্তত কয়েক লাখ ঘনফুট পাহাড়ের মাটি সরিয়ে ফেলেছে। দেশের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে দিনে রাতে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটছেন তিনি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত সাহেব আলী বলেন, পরিবারের লোকজন দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তার দৈনিক ২০ হাজার টাকা আয় রয়েছে, ফলে মাদ্রাসা পরিচালনা করতে তেমন আর্থিক সমস্যায় পড়তে হবে না। এছাড়া বাৎসরিক ৭২ লাখ টাকা আয় থাকলেও আয় কর পরিশোধ করে না বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ অনুযায়ী, পাহাড় কাটা আমলযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি, আধা-সরকারি, সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি পাহাড় কাটতে বা নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। যদি কেউ এটি অমান্য করে, তবে তাকে অথবা ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই বছর কারাদণ্ড অথবা ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ফের একই অপরাধ করলে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ জরিমানা গুণতে হবে।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, কোন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে পাহাড় কাটার নিয়ম নেই। এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



