লামার ইয়াংছা-চকরিয়া সড়ক নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পরিবারের ক্ষতিপূরণ দাবী

বান্দরবানের লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা থেকে চকরিয়া উপজেলার জিদ্দা বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণাধীন সড়কটি এতদঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও উপজেলার ইয়াংছা অংশের প্রায় ৫০টি পরিবার সড়ক নির্মাণের ফলে ঘর-বাড়ি, জায়গা জমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। তাই ক্ষতির কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা বাজার পয়েন্ট থেকে চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর হয়ে জিদ্দা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক নির্মাণ কাজের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যে এ কাজের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সড়কের সাড়ে ১৯ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় দেড় কিলোমিটার উপজেলার ইয়াংছা অংশের মধ্যে পড়েছে।

আরো জানা গেছে, চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর এবং লামার সীমান্ত পয়েন্ট হচ্ছে ইয়াংছা মৌজার শেষাংশে হিমছড়ি। হিমছড়ি থেকে ইয়াংছা বাজার পর্যন্ত অংশে নির্মাণাধীন সড়কের দু’পাশে প্রায় ৫০টির মতো পরিবার সড়ক নির্মাণ কাজের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন এ সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয়দের কাঁচা-পাকা বসত ঘর, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সৃজিত ফলদ-বনজ বাগান ও মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অনেকের একমাত্র সম্বল বসত বাড়ি আবার অনেকের বসত বাড়ি কিংবা ফলদ ও বনজ বাগান কেটে সড়ক তৈরি হচ্ছে। সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয়রা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিংবা ঠিকাদার কেউই কিছু বলতে পারছে না।

স্থানীয় ইয়াংছা এলাকার হাবিবুর রহমান, মনু রঞ্জন পাল, উমে মার্মানীসহ অনেকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তাদের জায়গা অধিগ্রহণ না করে কিংবা কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ ও কোন ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়ে বোল ডোজার ও স্কেবেটর দিয়ে তাদের বাড়ি ঘর ভেঙে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদেরকে হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

ক্ষতিপূরণ দাবী করে ইয়াংছা মৌজার হেডম্যান ক্যাসিংহ্লা মার্মা জানান, সড়ক নির্মাণ কাজে দু’পাশের জমি, বাড়িঘর, বাগান, ক্ষেতের ফসলের প্রচুর পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার বেশির ভাগই দরিদ্র। অনেকেই মাত্র ১০ শতাংশ জমির মালিক। তার পুরাটাই সড়কের মধ্যে পড়ে গেছে। ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা এখন কোথায় যাবে।

এই বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি নির্মাণ করতে গিয়ে কম বেশি প্রায় ৫০টির মতো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরা সবাই দরিদ্র বাসিন্দা, কর্তৃপক্ষ তাদের ক্ষতিপূরণ দিলে দরিদ্র জনসাধারণ উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, আমাদের ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন পেলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। দেরিতে হলেও তারা ক্ষতি পূরণ পাবেন।

আরও পড়ুন
Loading...