লামার ফাইতং ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জলিলকে হুমকির অভিযোগ

আসন্ন ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে বহিরাগত লোকজনের প্রভাব বিস্তার, প্রকাশ্যে সীল মারা, কেন্দ্র দখল, প্রার্থীর প্রাণ নাশ, গুজব ছড়িয়ে ভোটারদেরকে বিভ্রান্ত ও ভোটার উপস্থিতির হার কমানোর পরিকল্পনাসহ নানান অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জলিল।

আজ বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে প্রার্থীর ফাইতংস্থ নিজ বাড়ীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলেন প্রার্থী আবদুল জলিল। এ সময় তিনি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কেন্দ্রে বিচারিক ক্ষমতা সহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবী জানান।

লিখিত বক্তব্যে প্রার্থী আবদুল জলিল বলেন, আমি আবদুল জলিল উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, নির্বাচনে আমার মার্কা চশমা। নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুস্থ ও নিরপেক্ষ ভোট হবে এমন আশায় নির্বাচনে নেমেছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি কখনো বিশৃঙ্খল নির্বাচনের পক্ষে নয় বলে আশাবাদী। কিন্তু কক্সবাজার জেলার চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্যে শো ডাউন ও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করেছেন। প্রচারণায় বলেছেন ‘যারা ভোট নেবে, তারা নৌকা ‘যারা ভোট দেবে তারা নৌকা’ আবার যারা ভোট পাবলিশ করবে তারাও নৌকা’।

প্রার্থী আবদুল জলিল লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট প্রদান ও নির্বাচনী এজেন্টের মারধর করার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিদ্বন্ধী নৌকার প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক প্রচারণায় ও উঠান বৈঠকে প্রকাশ্যে ভোটারদের জানিয়েছেন; ভোট কেন্দ্রে আগত সকল ভোটারদেরকে চেয়ারম্যান পদের ব্যালট পেপার প্রকাশ্যে নৌকা প্রতিকে সীল মারতে হবে। তাছাড়া দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভোটের আগের দিন রাতে যে কোন সময় সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের সাথে নিয়ে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতিকে সীল মারবেন।

৭নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. বেলাল উদ্দিন বিপ্লবের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট প্রদান করবে বলে বিষয়টি ভোটাররা জানিয়েছেন। যে কোন ধরণের গুজব ছড়িয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতির হার কমানের জন্য প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী পরিকল্পনা করছেন। নির্বাচনের পূর্বের দিন রাতে যেন কোন প্রার্থীর কর্মী সমর্থক ও লোকজন ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে নিশ্চিত করার দাবী জানাই। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী তার পছন্দের লোকদেরকে ৯টি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পুলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একটি তালিকা অতি গোপনে রিটার্নিং অফিসারের নিকট জমা দিয়েছেন। তার পছন্দের লোকজন ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দায়িত্বও বুঝে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জলিল।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।