লামার ৭ ইউপিতেই আওয়ামী লীগের জয়জয়কার

সারা দেশের মত বান্দরবানের লামা উপজেলায়ও দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ব্যাপক উৎসাহ ও শান্তিপূণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে একযোগে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৬৪টি ভোট কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ভোট গননার পর ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতেই আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন। তিনজন রিটার্নিং অফিসারের অধীনে সবক’টি ইউনিয়নের ৬৩ ওয়ার্ডে ৬৪জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২০০বুথে ২শ‘ জন সহকারি প্রিজাইডিং এবং ৪শ‘ জন পোলিং অফিসার ভোট গ্রহনের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃংখলা রক্ষায় প্রতি কেন্দ্রে পুলিশ পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শক, উপ-সহকারী পরিদর্শক এবং পুলিশ সদস্যসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন ছিল। সেই সাথে সার্বিক আইনশৃংখলা রক্ষায় মাঠে নিয়োজিত ছিল নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স। নির্বাচনের সময় টুকিটাকি ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র মিলে নির্বাচনে সর্বমোট চেয়ারম্যান পদে ১৮ জন, সাধারন সদস্য পদে ২২১জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৬৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রাতেই রিটার্নিং অফিসারগন স্ব স্ব ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষনা করেন। এ সময় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রার্থীগণসহ শত শত উৎসাহী ভোটারগণ উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত ফলাফলে গজালিয়া ইউনিয়নে চতুর্থ বারের মত আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী বাথোয়াইচিং মার্মা নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. বাবুল হোসেন মোটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪৭ ভোট। লামা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মিন্টু কুমার সেন তৃতীয়বারের মত নৌকা প্রতীকে ২ হাজার ৬৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তার কামাল মোটর সাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৬৪৫ ভোট। প্রথম বারের মত ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী নুরুল হোছাইন নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকের হোসেন মজুমদার আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৫৮৯৪ ভোট।

আজিজনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন তৃতীয় বারের মত নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদ আহাম্মদ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১৫৬২ ভোট। প্রথম বারের মত সরই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মো. ইদ্রিছ কোম্পানী নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ১৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিতন হন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবু হানিফ আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২০৭ ভোট। ফাইতং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মো. ওমর ফারুক প্রথম বারের মত নৌকা প্রতীকে ৩ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জলিল চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ২২১৫ ভোট। তৃতীয় বারের মত রুপসীপাড়া ইউনিয়নে ছাচিংপ্রু মার্মা নৗকা প্রতীকে ৩ হাজার ৪৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ২২৮৫ ভোট। এছাড়া ৬৩ ওয়ার্ডে ৬৩জন সাধারন সদস্য ও ২১জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে সাত ইউনিয়ন মিলে সর্বমোট ভোটার ছিল ৫৭ হাজার ৯৬৯জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ২৮ হাজার ১৫জন এবং পুরুষ ভোটার ২৯ হাজার ৯৬৯জন।

লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আলমগীর হোসাইন ও রিটার্নিং অফিসারগন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শান্তিপূর্নভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের সময় টুকিটাকি ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনে ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতেই আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।