লামায় অসহায় নারীর বসত ঘরে আগুন দিয়েছে কে ?

বান্দরবানের লামা উপজেলায় গভীর রাতে আগুনে পুড়ে গেল গুন্না নাথ (৫৫) নামের এক অসহায় নারীর কাঁচা বসতঘর। আজ বৃহস্পতিবার (১৭অক্টোবর) ভোরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা গ্রামের হিন্দু পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এই নারী অভিযোগ করেন, শত্রুতা করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। স্বামী-সন্তান নেই, একাই থাকতেন এই ঘরে, কিন্তু নিজের শেষ আশ্রয় হারিয়ে এই নারীর কান্নায় যেন থামছেনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লামার মেরাখোলা হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা গুন্না নাথের স্বামী সন্তান বলতে কেউ নেই। তিনি ওই ঘরে একা বসবাস করে আসছিলেন। বুধবার দিনগত রাতে গুন্না নাথ ছোট ভাই পূর্ণ চন্দ্র নাথের বাড়িতে গিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তার ঘরে আগুন জ্বলে ওঠে। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে গুন্না নাথের মাটির বসত ও রান্না ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারনে ঘরের কোন মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। এতে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে দাবী করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ওই অসহায় নারী।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র লামা স্টেশন লিডার মোজাম্মেল হক জানান, রাত ১টা ৩০মিনিটের সময় আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কিন্তু ততক্ষণে গুন্না নাথের বসত ও রান্নাঘরটি পুড়ে যায়, তবে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত জানা যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত গুন্না নাথ বলেন,মাঝে মধ্যে দিনে কাজকর্ম শেষে ছোট ভাই পূর্ণ চন্দ্র নাথের বাড়িতে ঘুমাতে যাই। ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ নেই, তাছাড়া ঘটনার দিন রাতে কোন রান্নাও করিনি। কিভাবে আগুন লাগল বুঝতে পারছিনা। মনে হয় কেউ বা কারা শত্রুতা করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

আগুনে পুড়ে গুন্না নাথের বসত ও রান্নার ঘর পুড়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন বলেন, ঘটনাটি খুবই দু:খ জনক। ক্ষতিগ্রস্তকে পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।