লামায় কৃষকের বসতঘরে হামলা, লুটপাট ও চাঁদা দাবীর অভিযোগ

পূর্বশত্রুতার জের ধরে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় এক কৃষকের বসতঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেপছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, এ সময় কৃষক পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদাও দাবী করে হামলাকারীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বাঁশখালী ঝিরির মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা হাফেজ আহমদের বসতঘরে।

এ ঘটনায় কৃষক হাফেজ আহমদের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (৫০) বাদী হয়ে এক জনের নাম উল্লেখ সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার লামা থানায় এজাহার দাখিল করেছেন। অভিযুক্ত মো. নাছির উদ্দিন বাঁশখালী ঝিরির মুুসলিম পাড়ার বাসিন্দা মজু মাঝির ছেলে। হামলা, লুটপাট ও চাঁদা দাবীর কারণে আতংকিত হয়ে পড়েছেন ওই কৃষক পরিবার।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কৃষক হাফেজ আহমদের সাথে জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে পাশের মো. নাছির উদ্দিন এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী নাছির উদ্দিন সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন কৃষকের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। এ মামলার প্রেক্ষিতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিজ্ঞ আদালত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বিবাদীরা জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে একের পর এক প্রাণ নাশের হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ৩১ জুলাই দিনগত রাত ১১টার দিকে বিবাদী নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন সংঘবদ্ধ হয়ে কৃষকের বসতঘরে হামলে পড়ে।

এ সময় হামলাকারীরা জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী হাফেজ আহমদকে মারধর করে এবং বলে, ‘এক দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার সহ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিবি’, না হয় তোদের বসতঘর সহ জমিজমা দখলে নিয়ে নিবো’। এরপরও জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী চাঁদা দিতে পারবেনা বললে, হামলাকারীরা তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে জীবন বাঁচাতে কৃষক হাফেজ আহমদ স্ত্রীকে নিয়ে এক কিলোমিটার দূরে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ ফাঁকে হামলাকারীরা কৃষকের ঘরে রক্ষিত মূল্যবান কাগজপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণাংকার নিয়ে যায় এবং ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধণ করে চলে যায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন জানান, বসত বাড়িতে লুটপাট ও চাঁদা দাবীর অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

স্থানীয় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আপ্রুছিং মার্মা বলেন, বিভিন্ন সময় নাছির উদ্দিনগংরা জান্নাতুল ফেরদৌসদের সাথে ঝামেলা করে বলে শুনেছি।

নাছির উদ্দিন গংদের প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকির কারণে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ভুক্তভোগী কৃষকের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, হামলাকারীরা যে কোন মুহুর্তে আমাদের বাড়িঘর দখল ও প্রাণনাশ করতে পারে।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, জান্নাতুল ফেরদৌসের অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।