লামায় জমি রক্ষা করতে ১৩ কৃষকের সংবাদ সম্মেলন

লামায় জমি রক্ষা করতে কৃষকের সংবাদ সম্মেলন
বান্দরবানের লামা উপজেলায় বহিরাগত প্রভাবশালী জবর দখলকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ১৩ দরিদ্র কৃষক।
শনিবার দুপুরে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি ডলুছড়ি এলাকার একটি জরাজীর্ণ হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী কৃষকরা। সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সোহরাব আলী। এ সময় ভুক্তভোগী কৃষক সুলতান খাঁ, লাল মিয়া, সিরাজ ডালি, মো. আজাদুল, সালমা বেগম, সাকেরা বেগম, আমেনা বেগম, কোহিনুর আক্তার, হিরো আক্তার, মো. সেলিম উদ্দিন, মো. পেয়ারু, অরুণ কর্মকার, ফেরদৌস, জান্নাতারা বেগম ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ৩০ বছর ধরে উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজা এলাকায় ২৫টি কৃষক পরিবার প্রায় ৬০একর বনভুমিতে বসতি স্থাপন, ফলজ বনজ বাগান সৃজনসহ ভোগ করে আসছেন। ২০০৫ সালের দিকে পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার প্রভাবশালী মোহাম্মদ আলমগীর ও ফরিদুল আলম মহেশখালী এলাকার মোহাম্মদ রবিউল নামে এক সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে জনৈক সিরাজুল ইসলামের নামীয় লিজ মামলা নং ১০২ (ডি)/হটি/২০০০ মুলে ২৫ একর জায়গার কাগজ নিয়ে জায়গাগুলো তাদের দাবী করে। বিভিন্ন সময় লাটিয়াল বাহিনী নিয়ে দফায় দফায় কয়েকবার আক্রমনের ফলে প্রথমে কয়েকটি পরিবার তাদের দখলীয জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। এরপর বাকি যারা ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করে। অনেক জায়গায় দৌঁড় ঝাঁপ করেও কোন সূরাহা না পেয়ে মামলা হামলার ভয়ে গত কয়েক বছরে ১৩টি কৃষক পরিবার জমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে হোসেন আলীর ৬৪১নং ও ৩৩৫নং হোল্ডিং, মোহাম্মদ ফেরদৌস ও আব্দুর রহমানের ২৮২নং হোল্ডিং, অরুন কান্তি কর্মকারের ৩৮৩নং ও আর ৬৫৩নং হোল্ডিং, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন ও মোহাম্মদ পেয়ারু’র আর ৩৪৭ ও ৬৩৫নং হোল্ডিং, গোলাম হোসেনের আর ১৮৪নং হোল্ডিং, মোহাম্মদ সিরাজ ডালীর আর ৪৭৩নং হোল্ডিং, বোরহান উদ্দীন ও সালমা খাতুনের আর/৫২১নং, লাল মিয়ার ৩৫০নং হোল্ডিং মুলে সুলতান খাসহ প্রত্যেকের প্রতি হোল্ডিংয়ে সাড়ে ৪ একর করে প্রায় ৪৬ একর জমিতে বসবাস করছেন। সেখানে তাদের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রয়েছে, রয়েছে কৃষি জমিও। এত কষ্টার্জিত জমিগুলো আলমগীর গং ২৫ একরের হর্টিকালচার কাগজ নিয়ে ৩৫ একর জমি জবর দখলে নেয়। তাতেও প্রভাবশালীদের মন ভরছেনা। তারা বাকি কৃষকের জমিও দখলে নিতে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে এইসব পরিবারের প্রধানদের বিরুদ্ধে ধান কাটা ও গাছ কাটার ২টি মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছে ওই প্রভাবশালি মহল। এছাড়াও বিগত দুই বছরে ওরা অরুন কান্তি কর্মকার নামে স্কুল শিক্ষকের প্রায় ৮ লক্ষ টাকার আকাশমনি গাছ কেটে নিয়ে গেছে এবং কয়েকদিন আগে ঘর নির্মানের জন্য আনীত তার লক্ষাধিক টাকার সিমেন্ট ও ইট নিয়ে যায়। এমনকি বিগত ৩ বছর ধরে ওই শিক্ষক মোহাম্মদ রবিউলের ভয়ে জমিতে যেতে পারছেন না। বর্তমানে ১৩ দরিদ্র কৃষক পরিবার প্রভাবশালী জবর দখলকারী কর্তৃক উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে। তাই বসতভিটা ও জমি রক্ষার জন্য দরিদ্র কৃষকরা প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।