লামায় টাকার জন্যেই বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করে মংছাচিং

টাকার লোভেই বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাংরাউ ম্রো নামের এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে গ্রেফতারকৃত ঘাতক মংছাচিং মার্মা (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের নিকট জবানবন্দি দেয় ঘাতক। মংছাচিং মার্মা ত্রিশডেবা খামারপাড়ার অংক্যথোয়াই মার্মার ছেলে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘাতক মংছাচিং মার্মাকে গ্রেফতারের পর গত মঙ্গলবার লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের দুই দিনের মাথায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আলী আক্কাছ এর নিকট ঘাতক মংছাচিং মার্মা স্ব-ইচ্ছায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দী দেন।
ঘাতক মংছাচিং মার্মার স্বীকারোক্তির উদৃতি দিয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের চাথোয়াই হেডম্যান পাড়ার রেংনাপ মুরুং এর ছেলে বৃদ্ধ মাংরাউ মুরুং (৫৬) গত ২৭ জুলাই লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ত্রিশডেবা থেকে জমি লাগিয়তের টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ধারালো দা নিয়ে পিছু নেয় ঘাতক মংছাচিং মার্মা। এক পর্যায়ে দূর্গম পাহাড়ি এলাকার মুরুং ঝিরির আগা নামক স্থানে পৌঁছলে বৃদ্ধ মাংরাউ মার্মার পিঠে এবং ঘাড়ে অতর্কিতভাবে পিছন থেকে ধারলো দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে বৃদ্ধের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে বৃদ্ধের পকেটে থাকা নগদ ১৮ হাজার ৫শ’ নিয়ে নেয় এবং ছিন্ন মস্তকটি পাশের ঝিরিতে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা ঘাতক মংছাচিং মার্মাকে আটক করে লামা থানায় সোপর্দ করেন। পরে মুরুং ঝিরির আগা থেকে বৃদ্ধ মাংরাউ মার্মার মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।