লামায় তিন খুন : এবার প্রতিবেশি উত্তম বড়ুয়া ৩ দিনের রিমান্ডে

বান্দরবানের লামা পৌরসভা এলাকার চাম্পাতলী গ্রামের কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী মাজেদাসহ দুই কন্যাকে খুনের ঘটনায় দুই দেবরকে রিমান্ডে নেওয়ার পর এবার প্রতিবেশি উত্তম বড়ুয়াকে (৩৪) রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ১১ দিনের মাথায় আজ সোমবার (৩১ মে) বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। উত্তম বড়ুয়া চাম্পাতলী গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রমোদ বড়ুয়ার ছেলে।

সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনায় গত ২৬ মে রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উত্তম বড়ুয়াকে সন্দেহজনক আটকের পর ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করে। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ৩১ মে রিমান্ডের শুনানীর দিন ধার্য করে উত্তম বড়ুয়াকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন। সোমবার বিকালে শুনানী শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত। এর আগে গত শনিবার বিকালে নিহত মাজেদা বেগমের দুই দেবর আব্দুল খালেক ও শাহ আলমকেও আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

নিহত মাজেদা বেগমের দুই দেবরের পর প্রতিবেশি উত্তম বড়ুয়াকে রিমান্ডে নেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত তিন জনকে রিমান্ডে নেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ২৭ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ। আশা করছি শীঘ্রই এ ঘটনার রহস্য উৎঘাটন হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে রাতে লামা পৌসভা এলাকার চম্পাতলী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদের তালাবদ্ধ বসতঘর থেকে স্ত্রী মাজেদা বেগম (৪০), এসএসসিতে পড়ুয়া রাফি (১৫) ও ১০ মাস বয়সী নূরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারনা করা হয়, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতের যেকোন একসময় দুর্বৃত্তরা মাজেদা বেগম ও দুই সন্তানকে খুনের পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে সরে পড়ে। পরের দিন শুক্রবার সারাদিন তাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে নিহতের দেবর আব্দুল খালেক উকি দিয়ে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।