লামায় দুলাভাইয়ের হামলায় শ্যালকের স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বসতঘরে ঢুকে শ্যালকের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীর ওপর দুলা ভাইয়ের হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শ্যালকের স্ত্রী শিমু আইচের (৩০) গর্ভের তিন মাস বয়সী সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভা এলাকার বাজার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার বিদগ্রামের বাসিন্দা অনিল চৌধুরীর ছেলে সাগর চৌধুরীসহ অজ্ঞাত আরো এক ব্যক্তি এ হামলা করেন বলে জানান শিমু আইচের স্বামী রুবেল কান্তি দাশ। এ ঘটনায় আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, লামা বাজার ফান্ডের ১৩২, ১৩৪, ১৩৫ ও ১৩৬ নং প্লট ও স্থীত দোতলা বিল্ডিং এবং ছাগল খাইয়া মৌজার ২১৩নং হোল্ডিং এর ৪৩ শতক প্রথম শ্রেণীর জমি রুবেল দাশকে ৩শ টাকার স্টাম্প মূলে হিন্দু সম্প্রদায়ের রীতিনীতি অনুযায়ী দান করেন বাবা সজল কান্তি দাশ। এতে স্বাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে রুবেল কান্তি দাশের আপন চাচা দীলিপ কান্তি দাশ, লামা বাজারের ব্যবসায়ী প্রদীপ কান্তি দাশ ও চন্দন দাশ। এসব সম্পদ বাবদ ছেলে রুবেল দাশের কাছ থেকে বাবা সজল কান্তি দাশ নগদ ৭০ লাখ টাকাও নেন। তবে সব সম্পত্তি ছেলে রুবেল দাশকে দানের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি বড় বোন বিউটি চৌধুরীর স্বামী সাগর চৌধুরী। সম্পত্তির ভাগ নিতে তিনি বিভিন্ন সময় শশুর সজল কান্তি দাশকে কুপরামর্শ দিয়ে আসছেন ও নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এক পর্যায়ে এদের কু-পরামর্শে সজল কান্তি দাশ দানকৃত সম্পত্তি ছেলে রুবেল দাশকে দিবেনা বলে জবাব দেন। সম্পত্তি না দিলে পাওনা ৭০ লাখ টাকা ফেরত চাইলে বাবা সজল কান্তি দাশের সাথে ছেলে রুবেল কান্তি দাশের কথাকাটাকাটি হয়।

এদিকে সম্প্রতি সাগর চৌধুরী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শশুর কর্তৃক ছেলেকে দানকৃত সম্পত্তি বিক্রি করা হবে বলে নিজের মোবাইল নম্বর নং ০১৯৪০১৬৭০২৯ সংযুক্ত করে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে প্রচার করেন। এ নিয়ে আবারো বিরোধ সৃষ্টি হলে গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় সাগর চৌধুরীসহ অজ্ঞাত আরো এক ব্যক্তি লামা বাজারস্থ বসতঘরে ঢুকে রুবেল কান্তি দাশকে না পেয়ে স্ত্রী শিমু দাশকে অতর্কিতভাবে মারধর করে পালিয়ে যায় সাগর চৌধুরী। পরে খবর পেয়ে রুবেল কান্তি দাশ হামলায় আহত স্ত্রী শিমু আইচকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন। পরে ৭ এপ্রিল শিমু আইচের গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে একটি প্রতিবেদন দেন কক্সবাজার সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক নাহিদ সুলতানা।

ভিকটিম শিমু আইচের স্বামী রুবেল দাশ জানান, সম্পত্তির লোভে সাগর চৌধুরী আমাকে না পেয়ে আমার স্ত্রী শিমু আইচের ওপর হামলা করেন। এতে শিমু আইচের গর্ভের সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিয্ক্তু সাগর চৌধুরী মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি মারামারি করার মত মানুষ না। আমি বোয়ালখালী থাকি। তবে আমার শ্যালকের স্ত্রী শিমু আইচেকে ডিএন্ডসি করানো হয়েছে বলে শুনেছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। পুত্রবধু শিমু আইচের ওপর হামলা ও গর্ভের সন্তান নষ্টের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানায় রুবেল কান্তি দাশের বাবা সজল কান্তি দাশ।

এদিকে লামা পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সাইফুদ্দিন জানায়, সাগর চৌধুরীর হামলায় শিমু আইচের তিন মাস গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিতে রুবেল কান্তি দাশকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।