লামায় পরিবেশ ধ্বংসকারী পাথর খেকো যারা

লামায় ঝিরি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করছেন শ্রমিকরা
বান্দরবানের লামা উপজেলায় গত ১২ মাসে পাহাড় ও ঝিরি খুঁড়ে ১৩ লক্ষ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে পাচার এবং আরো ৫ লক্ষ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে পাচারের জন্য মজুদ করে পাচারকারীরা। আর এই পাচারকারীর তালিকায় আছেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অন্তত ২৫জন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা অনুসারে পাচারকারীরা হলো, মো.মহিউদ্দিন, জামাল উদ্দিন ফকির, হুমায়ন কবির, ওমর হামজা, মনু মেম্বার, মো. এনাম, মো. ফরহাদ, মুছলে উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন ও অজ্ঞাতনামা ৬ জন। কাঁঠালছড়া এলাকার আসামীরা হলেন, ইউনুস সর্দার, মনসুর ড্রাইভার, হোসেন ড্রাইভার, মো. হামিদ, ইলিয়াছ, অহিদ, মো. মোস্তফা কামাল ছোট্টু, মো. মিজান, লামার ইয়াংছামুখ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজেম উদ্দিন ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান, মো. মুমিন, লোকমান, মো. ওসমান, আনছার উদ্দিন, রোমেশ ও মো. ইউসুফ ও অজ্ঞাতনামা ৬ জন।
আরো জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নিপা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার পরিবেশ আইনে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ৩৭ জনের নামে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। এতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকও আসামী রয়েছেন।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান এর পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নীপা জানায়, আসামীরা লামা উপজেলার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, তদন্ত করে অন্যান্য অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত ও স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট লামার ফাঁসিয়াখালী, গজালিয়া ও ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের পাহাড় ও ঝিরি খুঁড়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পাচার করে আসছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে ৫ লক্ষ ঘনফুট পাথর জব্দ করে এবং এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক একেএম ছামিউল আলম কুরসি বলেন, মামলার কার্যক্রম চলমান থাকবে। আগামীতে আরো কেউ যদি অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচারের সাথে জড়িত হয় জানা গেলে পরিবেশ আইনে মামলা করা হবে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী এবং নদীর পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ঝরনা, ঝিরি ও ছরা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এরপরও বান্দরবানে ৭টি উপজেলায় পাথর উত্তোলন করে অবৈধ ভাবে পাথর পাচার বন্ধ নেই
এই বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে ফাঁসিয়াখালীর বিভিন্ন জলাধার, ঝিরি, ঝর্ণা ও খাল থেকে গত ১২ মাসে ১৮ লক্ষ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে মর্মে প্রমাণিত হয়েছে।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশের ক্ষতিকারকদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।