লামায় পাহাড়ে ২০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

লামায় পাহাড় কেটে এভাবেই ঝুঁপিূর্ণভাবে বসবাস করছে স্থানীয় বাসিন্দারা
বান্দরবানের লামা উপজেলায় গত কয়েক দিনের একটানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ঝূুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন নিয়েছে নানা উদ্যোগ। কিন্তু কিছুতেই সরতে রাজি হচ্ছে না এসব লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের মাইকিং, আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া, পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দুয়ারে-দুয়ারে গিয়ে প্রশাসনের অনুনয়-বিনয় কিছুতেই গলছে না পাহাড়ে বসবাসরতদের মন। অনেক তাগাদা দেওয়ার পর গত সোমবার পৌরসভা এলাকার ২৬ পরিবারের লোকজন নিরাপদে আশ্রয় নিলেও মৃত্যু ঝুঁকি জেনেও উপজেলার পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে এখনো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবারের মানুষ পাহাড়ের চূড়া, কোল ঘেষে ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরে না গেলে পাহাড় ধসে জান মালের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে পাহাড় ধসের দূর্ঘটনা এড়াতে ইতিমধ্যে উপজেলার ৫৫টি বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষনা করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, লামা পৌরসভা এলাকার চেয়ারম্যান পাড়া, নারকাটাঝিরি,হাসপাতাল পাড়া, বরিশাল পাড়া, বড়নুনারবিল পাড়া, চাম্পাতলী, নয়াপাড়া, সাবেকবিলছড়ি, রাজবাড়ী, কলিঙ্গাবিল, কাটাপাহাড়, মধুঝিরি এবং লামা সদর ইউনিয়নের লাইনঝিরির আগা, পশ্চিম মধুঝিরি, ডলুঝিরি, হাসপাতাল পাড়ায় পাহাড় ধস ঝুঁকিতে বসবাস করছে কয়েকশ পরিবার। এসব পরিবারের ঘরগুলোর কিছু পাহাড়ের পাদদেশে, কিছু কোলজুড়ে আবার কিছু চূড়ায়। একইভাবে আজিজনগর, ফাইতং, রুপসীপাড়া, গজালিয়া ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাহাড় কেটে অপরিকল্পিতবাবে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছে পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার। তাদের বেশিরভাগই হতদরিদ্র মানুষ।
এদিকে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য বর্তমানে উদ্বিগ্ন উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাগাদাসহ নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হলে ২৬টি পরিবার নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে কিংবা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও বেশিরভাগ এখনো সরে যায়নি।
ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী জামাল, আনোয়ারসহ আরও অনেকে জানান, আমরা গরীব মানুষ; এখানে সমতলের জমির দাম আকাশ ছোঁয়া। এত দরে আমাদের পক্ষে জমি কেনা অসম্ভব, তাই পাহাড়ের জমি কিনে বসবাস করছি।
এ বিষয়ে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীরা সরে যাচ্ছেনা। এলাকার বেশির ভাগ মানুষ গরীব। তাই নতুন করে নিরাপদ স্থানে ঘর তৈরি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা এলাকায় যারা পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বার বার মাইকিং এর মাধ্যমে তাগাদা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্রে খোলার পাশাপাশি তাদের জন্য খাবার, পানি ও তাদের বাড়ি পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপুর্ণ বসবাসকারীদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য উপজেলায় ৫৫টি বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পৌরসভা এলাকার ২৬টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বাকি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোও সরে না গেলে প্রশাসন কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।