লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ২৫ বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ৩ হাজার শিক্ষার্থী

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বান্দরবানের লামা উপজেলার নুনারঝিড়ি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত ২৫টি সরকারি-বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়া, পাহাড়ের পাদদেশ ও উপরে স্থাপিত হওয়ায় বিদ্যালয়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার লামা উপজেলায় ৮৫টি সরকারি ও ৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ের চুড়া ও পাদদেশে স্থাপিত ২৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০টি ও ভুমি ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ৫টি বিদ্যালয়। অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো, চেয়ারম্যান পাড়া, বড়বমু, বোচা পাড়া, বড় ফারাঙ্গা খিজ্জানুনা, ত্রিশডেবা, ঠান্ডারঝিরি, দরদরী পাড়া, এম হোসেন পাড়া, চিংকুমঝিরি, কম্পোনিয়া পাড়া, লাইনঝিরি, নুনারবিল মডেল সরকারি, অংহ্লারীপাড়া, ছোটবমু, ফাইতং হেডম্যানপাড়া সরকারি, নুনারঝিরি ও মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ৮টি বিদ্যালয় কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, এসব বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।
লামার চেয়ারম্যান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী আনিশা হোসেন বলেন, বেশি বৃষ্টি পড়লে আমাদের ভয় লাগে, যদি পাহাড় ধসে স্কুলের উপর পড়ে।
আরো জানা গেছে, বছরের পর বছর ধরে লামার বিদ্যালয়গুলো ঝুঁকিতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বিধায় ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়গুলোতে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের কারণে ৫টি বিদ্যালয় বন্যায় ও ভুমি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিমউদ্দিন জানান, বৃষ্টি নামলেই বিদ্যালয়ে আতঙ্ক নেমে আসে, বিদ্যালয় ভবনের নিচতলায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
সরজমিন চেয়ারম্যান পাড়া সরকারি ও নুনারঝিরি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয় দুটির পেছনে ভবন ঘেষেই রয়েছে বিশাল আকারের পাহাড়। গত কয়েকদিনের থেমে থেমে ভারী বর্ষণের কারণে এ পাহাড়গুলোর মাটি নরম হয়ে গেছে। টানা ভারি বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের অংশ বিশেষ ধসে পড়তে পারে বিদ্যালয ভবনের ওপর। বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে শিক্ষকরা।
১নং চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াছমিন জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ভবন ধস ঠেকানোর জন্য অনেকবার ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না।
সরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্যে জানা, ২০০৬ সালে জেলা সদরে ৩ জন, ২০০৯ সালে লামা উপজেলায় শিশুসহ ১০ জন, ২০১০ সালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৫ জন, ২০১১ সালে রোয়াংছড়ি উপজেলায় দুইজন, ২০১২ সালে লামা উপজেলায় ২৮ জন ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১০ জন, ২০১৫ সালের লামায় ৪ জন, সিদ্দিকনগরে ১ জন ও সদরের বনরূপায় ২ জন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে সদরের কালাঘাটার দুটি স্থানে শিশুসহ ৬জন এবং গত ২৩ জুলাই বান্দরবান রুমা সড়কের দলিয়ান পাড়া এলাকায় ৫জন নিহত হয়। গত কয়েক বছরের এসব ঘটনায় আহত হয় দেড় শতাধিক। একের পর এক ঘটনায় পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্ত্রীদের আতংক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. কামালউদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার ভবন রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যতীন্দ্র মোহন মন্ডল বলেন, ভবনগুলো রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত প্রয়োজন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।