লামায় বন্য হাতির মৃত্যু নিয়ে সতর্ক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায় সারছে বন বিভাগ !

বান্দরবানের লামা উপজেলায় একের পর এক বন্য হাতি হত্যা করা হলেও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায় সারছে বন কর্তারা, এমন অভিযোগ অনেকের। বৈদ্যুতিক ফাঁদ হতে বন্য হাতি হত্যার ঘটনায় লোক দেখানো মামলা করা হলেও, নেই মামলার অগ্রগতি। যার ফলে অপরাধীরা ধরা না পড়ার কারনে লামা উপজেলায় একের পর এক বন্য হাতি হত্যার ঘটনা ঘটছে।

লামা বন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কাইচার স্বাক্ষরিত গত ১৫ জুন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এতদ্বারা সর্বধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় অনাকাঙ্খিতভাবে বন্যা হাতী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে অথবা বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হাতীসহ যে কোন বন্যহাতী হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১৩ এর ৩৬(১)(২) ধারা মোতাবেক সর্বনিম্ন ২(দুই) বছর এবং সর্বোচ্চ ৭(সাত) বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং সর্বনিম্ন ১(এক) লক্ষ এবং সর্বোচ্চো ১০(দশ) লক্ষ পর্যন্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে। বন্যা হাতী সংরক্ষণ, মানুষ ও হাতীর সহাবস্থান সৃষ্টি এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদ হতে মানুষ ও হাতীর জীবন রক্ষায় তথ্য দিয়ে বন বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

আরো জানা গেছে, বন্যহাতী হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন থাকলেও জেলার লামা উপজেলায় একের পর এক হাতি হত্যার ঘটনা ঘটলে আইনের প্রয়োগ আর যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বন বিভাগ, এই ধরণের ঘটনা নগন্য। এর ফলে অপরাধীরা বন্য হাতি হত্যা করে হাতির দাঁত সংগ্রহ করে পাচারের ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে,গত ১৩ জুন লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি খালকুইল্যা পাড়ার ঝিরিতে একটি হাতির মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃত পুরুষ হাতিটির বয়স আনুমানিক ১২ বছর হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হাতিটির মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি হত্যা এ নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে গত সাত মাসে উপজেলায় ৪টি হাতির মৃত্যু হয়েছে, আর অধিকাংশ হাতির মৃত্যু মানুষের পাতা ফাঁদে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবদুর রহিম বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বন্য হাতিটির মৃত্যু হয়েছে, এই বিষয়ে কেউ আটক হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর একই ইউনিয়নের ইয়াংছা সলিমুল হক চৌধুরীর বাগানে একটি, ১৯ নভেম্বর কুমারী চাককাটারিতে একটি বাচ্চা বন্য হাতি ও ৩০ নভেম্বর ইসকাটাকার ঝিরিতে একটি বন্য হাতির মৃত্যু হয়। এসব হাতি হত্যার অভিযোগে পৃথক মামলা করে বন বিভাগ কিন্তু এসব মামলাই কাউকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়নি।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।