লামায় বালু খেকোদের কারনে ধসে গেছে ১টি ব্রিজ, আরেকটি ধসে পড়ার আশঙ্কা

ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুটি ব্রিজের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি ধসে পড়েছে, আরেকটি ব্রিজও যে কোন মুহুর্তে ধসে পড়তে পারে। ব্রিজ দুইটি মধ্যে একটি হচ্ছে ডুলজাহারা থেকে কমিউনিটি সেন্টার সড়কের বগাইছড়ি খালের ওপর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত ব্রিজ এবং অন্যটি কুমারী কবিরার দোকান থেকে কমিউনিটি সেন্টার সড়কের ফাঁসিয়াখালি খালের ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত বড় ছনখোলা ব্রিজ।

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিন্ম এক কিলোমিটারের মধ্যে ড্রেজার মেশিন বা অন্যান্য যন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করা যাবে না। অথচ ব্রিজের পাশ থেকে একটি বহিরাগত সিন্ডিকেট অবাধে তুলে নিচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট বালু। ফলে ব্রিজ দুইটির তলায় এবং পিলারের কাছে সৃষ্টি হয়েছে ১০-১২ ফুট আকারের গর্ত। ভেঙে যেতে শুরু করেছে ব্রিজের নিচের ঢালাই এবং পিলার। বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। এতে ব্রিজটির দুইটির ওপর দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মামুনসহ স্থানীয় বাসিন্দা মো. এরশাদ, খোরশেদ আলমসহ অনেকে।

গত সোমবার বড় ছনখোলা ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির একপাশ নিচের দিকে দেবে গেছে। নিচের ঢালাইগুলো মাটি থেকে দিন দিন প্রায় পৃথক হয়ে যাচ্ছে। পিলারগুলোরও খুব নড়বড়ে অবস্থা। যেকোন সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমান স্থানীয় মাটি ভরাট করে ব্রিজটির ওপর দিয়ে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বগাইছড়ি ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের তলের পাইলিংগুলো মাটির ওপরে উঠে গেছে। যেখানে মাটির নিচের পাইলিং পিলারগুলো সাধারণত দৃশ্যমান হওয়ার কথা না। কিন্তু ওই ব্রিজের দৃশ্য উল্টো ধরনের। তারপরও বস্তা ফেলে জোড়াতালি দিয়ে ব্রিজটি রক্ষার চেষ্টা করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী ত্রিদিপ ত্রিপুরা জানায়, ‘কিছু দিন আগে আমরা একটা প্রকল্পের মাধ্যমে আপাতত বস্তা বসিয়ে দিয়েছি বগাইছড়ি ব্রিজে। বালু উত্তোলনের কারণে মূলত ব্রিজগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে খুব শিগগিরই যোগাযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের লামা উপজেলার সার্ভেয়ার মো. জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ব্রিজের পাশ থেকে অবাধে বালু তোলার কারণে ২০১৯ সালে বড় ছনখোলা দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ধসে পড়েছে। এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে নতুন করে ব্রিজ নির্মানের জন্য মাটি পরীক্ষাসহ ইস্টিমিট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। করোনার কারণে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন আটকে আছে।

ব্রিজ ধসের সত্যতা নিশ্চিত করে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন মো. জাকির হোসেন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ২০১৯ সালে বড়ছন খোলা খালের ব্রিজটি ধসে পড়ে। বর্তমানে বগাইছড়ি খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটিও ধসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিজ দুইটি ধসে পড়লে ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।

এদিকে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজা রশীদ জানান, খুব শিগগিরই বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।