লামায় বাড়ির মালিককে ফাঁসাতে স্কুলের অফিস কক্ষে ভাংচুর করলেন ভাড়াটিয়া !

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় বাড়ির মালিককে ফাঁসাতে মো. ফরিদুল আলম বাবলু নামের এক ব্যক্তি নিজ প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ভাংচুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননা করতেও দ্বিধাবোধ করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়ির মালিক সৌদি প্রবাসী মো. জাফর আলমের ছোট ভাই জাকির হোসেন রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ অভিযোগ করেন।

ফরিদুল আলম বাবলু উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হায়দারনাশী গ্রামস্থ গ্রামার স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সামছুল আলমের ছেলে। বাড়ি ভাড়া বকেয়াকে কেন্দ্র করে ফরিদুল আলম বাবলু নিজেই নিজের প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু ও প্রধান মন্ত্রীর ছবিকে অবমাননা করে বাড়ির মালিক পক্ষকে ফাঁসাতে এ ঘটনার সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছেন মাত্র। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেন উভয় পক্ষ।

অভিযোগে জানা যায়, হায়দারনাশী গ্রামার স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ২০১৯ সালে স্থানীয় মো. জাফর আলমের কাছ থেকে ৭ কক্ষ বিশিষ্ট একটি দোতলা বিল্ডিং ৫ বছরের জন্য প্রতিমাসে সাড়ে ৫ হাজার টাকা ধার্য করে চুক্তিমূলে ভাড়া নেন। স্কুল কমিটির সদস্যরা প্রথম তিন মাস ভাড়া পরিশোধ করেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কালীন সময়ে বাড়ির মালিক মওকুফ করেন তিনমাসের ভাড়া। ফরিদুল আলম বাবলু পরবর্তীতে প্রায় ১৩ মাসের ভাড়া বকেয়া রাখেন। মালিকপক্ষ এ ভাড়ার টাকা চাইলে মো. ফরিদুল আলম বাবলু আজ দিবেন, কাল দিবেন বলে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ফরিদুল আলম বাবলু গত ১ জুন ভাড়া পরিশোধের কথা বললে বাড়ির মালিকের ভাই মো. জাকির হোসেন ভাড়া চাইতে যান। ওইদিনও ভাড়া দিতে পারবেনা বলে জবাব দিলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হায়দারনাশী-ডুলহাজারা সড়কের ওপর উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ভাড়াটিয়া ফরিদুল আলম বাবলু ক্ষিপ্ত হয়ে নিজেই নিজের গায়ের শার্ট ছিঁড়ে প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আসবাবসপত্রের উপর নিজেই তান্ডব চালায়। তান্ডবের পর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোষ্টও করেন তিনি। এতেও ভাইরাল না হলে তিনি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিচে ছুঁড়ে ফেলে পূণরায় ভিডিও ও ছবি তুলে ফেইসবুকে পূণরায় পোষ্ট করেন ফরিদুল আলম বাবলু।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি ও হয়দারনাশী বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল মন্নান বলেন, ঘটনার সময় স্কুলের পাশে আমার দোকানে বসা ছিলাম। ফরিদুল আলম বাবলু আর জাকির হোসেনের মধ্যে তর্কা তর্কির বিষয়টি দেখে দোকান থেকে বের হই। এরই মধ্যে দেখি ফরিদুল আলম তার গায়ের জামা নিজেই টেনে ছিড়ে ফেলেন এবং দৌড়ে গিয়ে তার প্রতিষ্ঠান স্কুলের অফিস কক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর, প্রধান মন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ছুড়ে ফেলেন। পরে বাড়ির মালিক পক্ষ জাকির হোসেনের এ তান্ডব চালিয়েছে বলে ভিডিও ও ছবি তুলে ফেইসবুকে পোষ্ট করে প্রশাসনকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেন ফরিদুল আলম বাবলু।

বাড়ির মালিকের ছোট ভাই মো. জাকির হোসেন জানায়, বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর থেকে মাত্র ৩ মাসের ভাড়া পরিশোধ করেছেন স্কুল কমিটি। আরো প্রায় ১৩ মাসের ভাড়া বাকি রয়েছে। ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে ফরিদুল আলম বাবলু শুধু কাল ক্ষেপন করে চলেছেন। বিষয়টি আবু ছালেহকে জানালে তিনি বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। এক পর্যায়ে ভাড়া পরিশোধ করবেন বলে আমাকে ওয়াদা করেন ফরিদুল আলম বাবলু। আমি তার ওয়াদা মত ১ জুন দুপুর ১২টার দিকে ভাটার টাকা চাইতে গেলে তিনি কোন ভাড়ার টাকা দিতে পারবেনা বলে জবাব দেন। এনিয়ে তার সাথে আমার হাতাহাতি হয়।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ফরিদুল আলম বাবলু জানান, বাড়ি ভাড়া পরিশোধকে কেন্দ্র করে মো. জাফর আলমের ছোট ভাই মো. জাকির হোসেনসহ আরো কয়েকজন মিলে আমার স্কুলের অফিস কক্ষের আসবাবপত্র ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননা করেছেন। এখন অপরাধ থেকে নিজেদের বাঁচাতে বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যে বলে বেড়াচ্ছেন জাকির হোসেনরা।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, স্কুলের অফিস কক্ষে ভাংচুর, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননার বিষয়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।