লামায় মেয়র পদে মনোনয়ন আলোচনায় এক নারীসহ ১০ নবীন প্রবীণ

পৌরসভা নির্বাচন

করোনা পরিস্থিতির কারনে দৃশ্যত উপেক্ষা করেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে ডিসেম্বর মাসে প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারী মাসে হবে আরেকটি ধাপ। পর্যায়ক্রমে মে মাসের মধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ সবগুলো পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। সে মতে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় ধাপে বান্দরবানের লামা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, এমন এ খবরটি ছড়িয়েছে দ্রুত বেগে। হাতে সময় খুবই কম। তফসিল ঘোষনার এক মাসের মধ্যেই শেষ করতে হবে সব প্রস্তুতি। নিতে হবে দলীয় মনোনয়নও। তাই সব কিছু পেছনে ফেলে নির্বাচনের পৌর পিতা হতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টির আগ্রহী প্রার্থীরা নড়াচড়া শুরু করেছেন।

তবে প্রার্থীরা জানেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচনের চেয়েও জরুরী দলীয় মনোনয়ন। কারণ নিকট ইতিহাস বলছে, সরকার দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত মানেই অনেকটাই নিশ্চিত বিজয়ী হওয়াও। এখন কে পাচ্ছেন প্রধান দু’দলের দলীয় মেয়র পদে মনোনয়ন? কে হবেন লামার পৌর পিতা? ভোটারদের কাছে এর চেয়েও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কে কে চাইছেন দলীয় মনোনয়ন ! এমন আলোচনার ঝড় বইছে এখন পুরো পৌরসভা জুঁড়ে।

স্থানীয় তথ্য মতে, এ পর্যন্ত সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন এমন আলোচনায় রয়েছেন ৫ জন, বিএনপি থেকে ৪ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ১জন। যে যার যার দল থেকে মনোনয়ন পেতে জোর তদবীর চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমেও মনোনয়নের বিষয়টি জানান দিচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

জানা যায়, বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে গেছেন। গত ৫ বছরে পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। তাই লোকমুখে শুনা গেছে, জহিরুল ইসলাম আবারো দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এবং তিনিই দলীয় প্রার্থী হবেন এটাই অনেকটা নিশ্চিত।

এছাড়া এ দল থেকে যারা মনোনয়ন আলোচলায় রয়েছেন তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিজয় কান্তি আইচ, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশ, তাঁতী লীগের উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম মোহাম্মদ ইসমাইলের ছোট ভাই মো. নাছির উদ্দিন ও সহ ধর্মিনী হাসিনারা মোস্তফা লাভলী।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অংশগ্রহণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন, তিনিই এ দলের প্রার্থী নিশ্চিত বলে সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে, পৌর শহর যুবদলের সভাপতি সুলতান আকবর মোমিন, লামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মালেক চৌধুরীর ছেলে আরিফ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ শাহীন ও জাতীয় পার্টির লামা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ.টি.এম শহীদুল ইসলাম বাবলুর নাম শুনা গেছে। একইভাবে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীরাও যে যার মতে মনোনয়নের জন্য তদবীর ও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক হলেও নির্বাচনে কে পেতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দলের মনোনয়ন? কার কার হাতে যাবে দলীয় প্রতীক, এমন আলোচনা এখন সর্বত্র। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, কেবল মাত্র দলীয় মনোনয়ন পেলেই মেয়র পদে লড়বেন তারা। অন্যথায় নহে। আবার দলীয়ভাবে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হউক না কেন, একটি সফল নির্বাচনের মাধ্যমে ‘মেয়র’ পদে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে প্রস্তুত দলের নেতাকর্মীরা এমনটা বলেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাথোয়াইচিং মার্মা।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরও একই বক্তব্য ‘দল যদি মনোনয়ন দেয় তবেই নির্বাচন করবেন’। অথবা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এক হয়ে কাজ করবেন তারা। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আমির হোসেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভার তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. আমির হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পায় ২ হাজার ৮৩৫ভোট ।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।