লামায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ

বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত লুলাইং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা ভূমিদস্যুরা আত্মসাৎ করতে চায় বলে অভিযোগ উঠেছে। জায়গা আত্মসাৎ করতে না পেরে উল্টো বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লুলাইং মৌজা হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে ভূমিদস্যু চক্রটি।

আজ শনিবার সকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ৩০২নং লুলাইং মৌজার হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরী, ২৮৫নং সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান চংপাত ম্রো, চংকক পাড়া কারবারী চংকক ম্রো, লেমুঝিরি চাকমা পাড়া কারবারী প্রিয় চাকমা, কচুরছড়া পাড়ার কারবারী নানওয়াই ম্রো, লুলাইং মুসলিম পাড়া সর্দার দেলোয়ার হোসেন ও আমরাঝিরি পাড়া কারবারী মেনদন ম্রো লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন। বিদ্যালয়ের জায়গা আতœসাৎকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের মধ্যে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগে জানা যায়, লামা উপজেলার ৩০২নং লুলাইং মৌজার হোল্ডিং নং ১৫ এর ৮২ শতক জায়গা পায়া ম্রো (দলিল নং ৮৪৫/১২ মূলে) লুলাইংমুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দান করেন। দানকৃত জায়গায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বিদ্যালয় ভবনও নির্মাণ করে। আশপাশ এলাকায় আর কোন বিদ্যালয় না থাকায় ওই এলাকার শিশুরা এ বিদ্যালয়েই লেখাপড়া কর আসছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের দানকৃত জায়গা আত্মসাতের জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে স্থানীয় মো. আবু বক্কর নামের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আবু বক্কর রুমা উপজেলার ৩৫৬নং পলি মৌজার মুসলিম পাড়ার গোলাম সোবাহান এর ছেলে। বর্তমানে উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আমতলী পাড়ায় বসবাস করেন আবু বক্কর। মূলত তার নেতৃত্বেই একটি ভূমিদস্যু চক্র বিদ্যলয়ের জায়গা আত্মসাতের জন্য নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগে আরো জানা যায়, মৌজার হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরী বিদ্যালয়ের জায়গা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক গং বান্দরবান সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা (অপর মামলা নং-১৫২/২০২১ইং) দায়ের করেন। মামলার বর্ণনামতে বর্ণিত হোল্ডিং এর পূর্বের মালিক পায়া মুরুং ও শ্যালক ওয়াদিন মুরুংয়ের কাছ থেকে আমমোক্তার নামা মূলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক মামলাটি রুজু করেন। মামলার ২নং তপশীলে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক গং দাবী ৩০২নং লুলাইং মৌজার হোল্ডিং নং ১৫ এর ৮২ শতক জায়গা তাদের। মূলত এই জায়গা দানমূলে মালিকানা লাভ করে লুলাইংমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ইতিমধ্যে সিংপাশ চৌধুরীর বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে। যা তদন্তে প্রমাণিত হবে। তবে তদন্তের আগে সিংপাশ চৌধুরী নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমাদের বিরুদ্ধে এখন স্কুলের জায়গা আত্মসাৎ চেষ্টার মত মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

মূলত বিদ্যালয়ের জায়গা আত্মসাৎ চেষ্টাকারী চক্রটি না পেরে লুলাইং মৌজার এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতি করার নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারীরা। এ ধারাবাহিকতায় পাড়ার কারবারী ও স্থানীয় অধিবাসীদেরকে মিথ্যা বুঝিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মৌজার হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণসহ গত ২৭ সেপ্টেম্বর বান্দরবান সদরের অজ্ঞাত স্থানে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভূমিদস্যু চক্রটি। এ প্রেক্ষিতে আবু বক্কর ছিদ্দিক চক্রের বিরুদ্ধে লামা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরীও (জিডি নং-৭৯২, তারিখ- ২২/০৭/২১) করা হয়। ভূমিদস্যু চক্রের মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ গুলোর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনসাধারণকে বিদ্যালয়ের জায়গা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবানও জানান পাড়া কারবারী ও স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে স্থানীয় ক্যয়াজুপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. আবুল হাসেম বলেন, সম্প্রতি লুলাইং মৌজা হেডম্যান সিংপাশ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি। তবে আমার কাছে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।