লামায় হেডম্যানের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ

বান্দরবারে ফাইতং ইউনিয়নে লামায় পাহাড় কাটার একাংশ
বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রভাব খাটিয়ে অবাধে চলছে পাহাড় কর্তন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পাহাড় কাটায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও একের পর এক পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংখা করছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা মৃত চাথোয়াইং মার্মার ছেলে ও ফাইতং মৌজা হেডম্যান উম্রা মং মার্মার নেতৃত্বে ১০-১২জন লোক গত ৩দিন ধরে এ পাহাড় কাটছেন। কেউ যেন পাহাড় কাটার ছবি তুলতে না পারে, এজন্য রাখা হয়েছে কড়া পাহাড়াও। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণের ফলে এ পাহাড়ের ওপরের অংশ ধসে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে। পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
উক্ত এলাকার মএনু মার্মা জানায়,কর্তনকৃত পাহাড়ের মাটি পড়ে ভরাট হতে পারে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ঝিরি,ফলে বন্ধ হতে পারে জিড়ির পানি প্রবাহ। পাহাড় কর্তনের ফলে পাহাড় ধ্বসে ২০১২সালের মতো নিহত ও আহত হবার মতো বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সূত্র আরো জানায়, স্থাপনা নির্মাণের নামে গত শুক্রবার থেকে ১০-১২জন শ্রমিক নিয়ে হেডম্যান পাড়া সংলগ্ন উঁচু একটি পাহাড় কাটা শুরু করেন ফাইতং মৌজা হেডম্যান উম্রা মং মার্মা। গত তিন দিনে পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ কেটে সাবাড় করে দেন তিনি। সেই সঙ্গে আগুন লাগিয়ে উজাড় করা দিয়েছেন ওই পাহাড় জুঁড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষ। এ পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে বেশ কয়েকটি বসতঘরও। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই এ পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ে বসতঘর বিধ্বস্তসহ প্রাণহানি ঘটতে পারে।
এই ব্যাপারে অভিযুক্ত হেডম্যান উম্রা মং মার্মা বলেন, পাহাড় কাটছিনা, ঘর নির্মানের জন্য পাহাড়ের উপরের অংশ বিশেষ সমান করছি মাত্র।
প্রসঙ্গত,পাহাড় কর্তন করে পাহাড়ের পদদেশে বসবাস করার কারনে ২০১২ সালে জেলার লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বসতবাড়ির উপর পাহাড় ধসে ২৮ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই ব্যাপারে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।