লামায় হয়রানি মামলায় ঘর ছাড়া এক কৃষক পরিবার !

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে মো. ইসমাইল নামের এক কৃষক পরিবারকে থানায় মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার সরই ইউনিয়নের দেরাজ মিয়া পাড়ার বাসিন্দা মৃত সোলেমান গাজির ছেলে আবুল কালাম জমি জবর দখল করতে না পেরে নিজের ঘর নিজেই ভেঙ্গে কৃষক পরিবারের শিশুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এ হয়রানি করছেন। বর্তমানে গ্রেফতার এড়াতে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে বেড়াচ্ছেন কৃষক ইসমাইল ও তার পরিবারের সদস্যরা। হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষক ইসমাইল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
কৃষক মো. ইসমাইল বুধবার সকালে সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দেরাজ মিয়া পাড়ায় তার বাবা মোজার মিয়ার নামে ৩০৩নং ডলুছড়ি মৌজার আর ২০৪ হোল্ডিং নং মূলে চার একর, চাচা কাদের বকসুর নামে ১৯৯নং হোল্ডিং মূলে চার একর জমি রয়েছে। পাশাপাশি ২০০৪ সালে স্থানীয় আহমদ কবির নামের জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে আরো তিন একর আশি শতক ও হেডম্যান রিপোর্টের জমিসহ সর্বমোট ২০ একর জমি তথায় বিভিন্ন ফলদ বনজ বাগান ও বসতঘর সৃজন করে ৩৪-৩৫ বছর ধরে ভোগ করছেন। ২০০১ সালে চট্টগ্রামের জনৈক বেগম শায়লা নাসরীন নামের এক ব্যক্তি তার লোকজন দিয়ে ওই জমি তাদের দাবী করে মামলা ও হামলা শুরু করেন। এক পর্যায়ে জতি তাদের দাবী করে ২০১১ সালে একটি মামলা করেন (মামলা নং- ২৩৫/১১) বেগম শায়লা নাসরীন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত ২০১৪ সালে মামলাটি খারিজ করে দেন।
কৃষক ইসমাইল আরো বলেন, মামলায় হেরে গিয়ে ও জমি জবর করতে না পেরে চার বছর পর পূণরায় নতুন করে গত বৃহস্পতিবার সকালে বেগম শায়লা নাসরীনের কেয়ারটেকার আবুল কালাম পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘুর্ণিঝড়ে ভেঙ্গে পড়া একটি টিনের ঘরকে নিজেই পুরোপুরি ভেঙ্গে দিয়ে আমাকেসহ পরিবারের শিশুসহ ৮জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা দেন। এ মামলায় আমার ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (১২) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুধু তাই নয়, আবুল কালামগং ২০০১সাল থেকে এ কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে থানা, আদালত ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক ব্যক্তি বাদী হয়ে প্রায় ৩০টির মত মামলা এবং অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে বলেও জানান কৃষক ইসমাইল।
স্থানীয় মাহমুদুল হক, মো. আউয়াল ও আসাদুলহকসহ আরো অনেকে সাংবাদিকদের জানান, কৃষক ইসমাইল কর্তৃক আবুল কালামের ঘর ভাংচুরের ঘটনা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ মো. আবুল কালাম মুঠোফোনে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে ইসমাইল ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা আমার ঘরটি ভেঙ্গে দেয় এবং টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। ঘর ভাংচুরের ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। এখন বাঁচার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে ইসমাইল।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।