লামায় ৮ মন্ডপে হবে দুর্গাপূজা

দুর্গোৎসব (ফাইল ছবি)
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৮টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে হিন্দু ধর্মালম্বীদের দুর্গাপূজা। এর মধ্যে পৌর এলাকায় দুইটি, লামা সদর ইউনিয়নে একটি, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে চারটি, আজিজনগর ইউনিয়নে একটি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
হিন্দু স¤প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শ্রী শ্রী সার্বজনীন শারদ উৎসব বা দুর্গাপূজা। চলতি মাসের ১৫ নভেম্বর মহাষষ্ঠমীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ১৯ নভেম্বর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই পূজা। ইতিমধ্যে মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, এখন চলছে রং তুলী ও সাজ সজ্জার কাজ। এদিকে উৎসব যেন সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন; সেজন্য মন্ডপগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রতিমা প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহিষাশুর বধ পূজার বিশেষ আকর্ষণ বলে জানা গেছে।
লামা উপজেলা দূর্গা পুজা উদযাপন পরিষদের কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় আইচ বলেন, উপজেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মা দুর্গা আসছেন নৌকায় চড়ে, আর গমন করবেন দোলায় চড়ে। এবার কেন্দ্রীয় লামা হরি মন্দির মন্ডপের জন্য বাজেট ৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। তবে সরকারীভাবে এখনো কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। প্রতিবারের মত এবারো পুজার নবমীর দিন প্রসাদ বিতরণ করা হবে জানান পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবুল কান্তি দাশ।
এদিকে লামা সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা হরি মন্দিরের দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সাধন চন্দ্র সেন বলেন, আমরা প্রতিবারের মত এবারও সনাতন ধর্মের নিয়ম অনুসারে প্রতিমা তৈরি করেছি। আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। মন্দিরের সাজসজ্জার আর প্রতিমাকে সাজানোর কাজ বাকি রয়েছে। পূজা শুরুর আগেই বাকী সম্পন্ন হবে। একই কথা জানালেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার, ইয়াংছা, পাগলির আগা, কমিউনিটি সেন্টার, আজিজনগর ইউনিয়নের তেলুনিয়া ও পৌরসভার চম্পাতলী মন্ডপ কমিটির সদস্যরা।
লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানায়, দুর্গাপূজা হচ্ছে সর্বজনীন উৎসব। এটি যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তবে উৎসব হচ্ছে সকলের। বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জাতির বসবাস, সকলে মিলে প্রতিবছর আমরা সুষ্ঠভাবে এই উৎসব উদযাপন করে আসছি। তাই আশা করি এবারও আমরা সকলে মিলেমিশে এ উৎসব করতে পারবো।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, প্রতি বছরের ন্যয় এবছরও সরকারি ভাবে দূর্গা পুজা উৎসব পালনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হবে, তবে এখনো বরাদ্দ আসেনি। বরাদ্দের জন্য ইতিমধ্যে মন্ডপগুলোর তালিকা ও আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে অনুদান প্রদান করা হবে মন্ডপগুলোতে।
লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, মন্ডপগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ভিডিপি সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।