লামা-আলীকদম-চকরিয়ার ৯ ইউনিয়ন ৭ দিন ধরে অন্ধকারে

ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডবের ৬দিন পরও বান্দরবানের লামা-আলীকদমসহ চকরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় এখনও অন্ধকারে রয়েছে স্থানীয়রা। ফলে ওই ইউনিয়নগুলোর গ্রাহককে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
লামা উপজেলার রুপসীপাড়া, গজালিয়া, ফাঁসিয়াখালী, ফাইতং, আজিজনগর, সরই, লামা সদরসহ চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ও মানিকপুর ইউনিয়ন বিদ্যুৎহীন। এর মধ্যে ৫ দিনের মাথায় উপজেলা শহরের বাজার এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক করতে পেরেছে লামা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ। তবে ইউনিয়নগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৪ দিন সময় লাগতে পারে বলে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লামা পৌরসভা, উপজেলার রুপসীপাড়া, লামা সদর, গজালিয়া, ফাঁসিয়াখালী এবং চকরিয়ার মানিকপুর ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন।
সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় মোরা ৩০ মে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আঘাত হানলে ৩৩ হাজার ও ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ তান্ডবে লামা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ৪০-৪৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে শতাধিক স্থানে তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ছিঁড়ে গেছে। পরে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ চালালেও সোমবার পর্যন্ত খোদ পুরো উপজেলা শহরেও বিদ্যুৎ বিতরণ করা যায়নি।
কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, লামা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ২৭ জন কর্মচারীর স্থলে আছে মাত্র ৪জন। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানায়, গত ৬ দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় কোন কাজ করা যাচ্ছেনা। এছাড়া পবিত্র মাহে রমজান মাসের ইফতার, তারাবি ও সেহেরীর সময় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, বিদ্যুৎ ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা অসম্ভব। বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের কষ্টের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের গ্যাস দিতে না পেরে প্রচুর কষ্ট পাচ্ছে।
এ বিষয়ে লামা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী অলিউল ইসলাম বলেন, আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। বিদ্যুৎ বিভাগের লোক ছাড়াও প্রয়োজন হলে দৈনিক ভিত্তিক ৩০জন লোক দিয়ে কাজ সারানো হচ্ছে। আশা করি ৪দিনের মধ্যে সবগুলো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, এছাড়া সোমবারের মধ্যে আলীকদম, ইয়াংছা ও পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।