লামা ও আলীকদমে নির্মাণ হচ্ছে দৃষ্টি নন্দন মডেল মসজিদ

তৃণমূল পর্যায়ে ইসলামী জ্ঞানের চর্চা ও গবেষণা কার্যক্রমের প্রসার ঘটাতে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইটি দৃষ্টি নন্দন মডেল মসজিদ।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার এসব নির্মাণ করছে। এছাড়া জেলা সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়ও মডেল মসজিদ নির্মাণ করছে সরকার। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ইসলামিক স্থাপত্যের ঐতিহ্যমাখা এসব নির্মাণ সম্পন্ন হলে ইসলামের রীতিনীতি যথাযথভাবে পালন ও গবেষণার মধ্য দিয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলার ন্যায় উপজেলা দুটির প্রত্যন্ত এলাকায় ইসলামি সংস্কৃতির গৌরবোজ্জ্বল আলো ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। এ মডেল মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে উপজেলা দুটি আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার মূলক প্রকল্প হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় লামা উপজেলায় একটি ও পাশের আলীকদম উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্যোগ নেয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চার তলার ফাউন্ডেশনে তিন তলা ও জেলা সদর পর্যায়ে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চার তলার ফাউন্ডেশন চার তলা নির্মাণ করা হবে। অনুমোদিত প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী এ মডেল মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরে গাড়ি পার্কিং, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, প্রতিবন্ধীদের জন্য নামাজের কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে।

এছাড়াও দ্বিতীয় তলায় থাকছে প্রধান নামাজ কক্ষ ও কনফারেন্স কক্ষ। আর তৃতীয় তলায় থাকছে মহিলা ও পুরুষদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, রিসার্চ সেন্টার, মক্তব এবং ইসলামিক লাইব্রেরীসহ বিভিন্ন সুবিধা। চতুর্থ তলাতে থাকবে কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র, তাহফিজ সেন্টার, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের কক্ষ ছাড়াও অতিথি কক্ষ।

ইতিমধ্যে নতুন মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য লামা উপজেলার কোর্ট জামে মসজিদের পুরাতন ভবন ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। নতুন ভবন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী মসজিদ হিসেবে অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন গণপাঠাগারে মুসল্লিরা আপাতত নামাজ আদায় করছেন। নতুন মসজিদ নির্মাণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত স্থানটি খোলা থাকলে অনেকে মল মূত্র ত্যাগ করে এর পবিত্রতা নষ্ট করতে পারে; এমন আশংকা করে মুসল্লি মো. সাহেদ উদ্দিন, নবীর উদ্দিন, মো. সাইফুদ্দিন জানান, প্রায় ৩ যুগ ধরে তারা যে স্থানে সেজদা দেয়া হয়েছে, সেখানকার চারদিকে টিনের ঘেরা বেড়া দিয়ে এর পবিত্রতা রক্ষা করা দরকার।

মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা আজিজুল হক বলেন, সরকারের মডেল মসজিদ নির্মাণের লক্ষে পুরাতন মসজিদটি ভেঙে ফেলায় বর্তমানে গণ পাঠাগারে নামাজ আদায় করা হচ্ছে। ছোট জায়গাটিতে মুসল্লীদের সংকুলান না হলেও ভবিষ্যতে বড় কিছু প্রাপ্তিতে কষ্ট স্বীকার করে মুসল্লীরা নামাজ আদায় করছেন।

লামা পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্রে আধুনিক দৃষ্টি নন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লামা পৌরসভা মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকার ধর্মপ্রাণ মুসলামানদের ইসলামের রীতিনীতি পালন, গবেষণা ও প্রচারের সুবিধার্থে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এ মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম জানান, ইতিমধ্যে উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য স্থান চুড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি সরকারের এ উদ্যোগে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌমেন মল্লিক বলেন, লামা উপজেলায় মডেল মসজিদ ভবন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদ ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন। পাশাপাশি আলীকদমের মডেল মসজিদ নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া জেলা সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়ও মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ চলছে।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।