শা‌ন্তি চুক্তির সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারা সংশোধনের দাবী

কোন চুক্তি বা আইন সংবিধানের উ‌র্ধে স্থান পেতে পারে না। শা‌ন্তি চুক্তিও বাংলাদেশ সংবিধানের আওতায় রয়েছে। সেখানে শান্তিচুক্তিতে সংবিধান বহির্ভূত বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোন কিছু থাকা উচিত নয়। শান্তি চুক্তির দুই দশক পরে আজ সময়ের দাবি শান্তিচুক্তি পুনর্মূল্যায়নের। তাতে একদিকে সংবিধান, রাষ্ট্রীয় অখন্ডতা ও নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক যে সব ধারা-উপধারা দৃশ্যমান হবে তা সংশোধন করা যেতে পারে। অন্যদিকে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হতে পারে এমন ধারা সংযোজন করা যেতে পারে আর।

আজ মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) রাঙ্গামাটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চুক্তিতে বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারাগুলো সংশোধন করে চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ নেতৃবৃন্দরা এসব কথা বলেন।

নেতারা বলেন, শান্তি চুক্তির পর কেটে গেছে ২৩ বছর। একের পর এক চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে পাহাড় জুঁড়ে। তবুও চুক্তির পর পার্বত্য অঞ্চলে একে একে কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য অঞ্চলে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের কাছে পাহাড়ি-বাঙালি জি‌ম্মি। পাহা‌ড়ে অশান্তি সৃষ্টির মূলে রয়েছে চারটি সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে ধারাবা‌হিক সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষ যত‌দিন বন্ধ না হবে ততদিন পাহাড়ে শান্তি আসবে না। তাই তাদের নির্মূল করা জরুরি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, শান্তি চুক্তি করা হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্য পোষণ করার জন্য। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক প‌রিষ‌দের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা ভোগ করার পরেও একুশে ফেব্রুয়ারি, শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মতো জাতীয় দিবসগুলো পালন করেন না। তিনি এখনও বাংলাদেশের ভোটার হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। শান্তিচুক্তিতে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের মূল স্রোতধারায় থেকে সর্বক্ষেত্রে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে অথচ সুযোগ নিয়ে আঞ্চলিক সংগঠন গুলো বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন যুথবদ্ধতার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশি-বিদেশি ষড়য‌ন্ত্রে ব্যস্ত পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে।

শান্তি চুক্তি সম্পাদনের পর পরেই সন্তু লারমা দাবি করেন, শান্তিচুক্তি একটি অলিখিত এবং সেই অলিখিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের দাবি মেনে ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করা হয়েছে। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের বলা হয়েছে, শান্তি চুক্তি হচ্ছে পাহাড়ে শান্তি স্থাপনের একটি আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই শান্তিচুক্তিতে এমন কিছু দ্বারা সংযোজিত হয়েছে বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানকে প্রচলিত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক একই সাথে তা বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক।

তাই নেতৃবৃন্দ এ সংবাদ সম্মেলন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানকে সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারাগুলো সংশোধন করার দাবি জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান অপসারণ পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যাহারকৃত নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি জানান সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব আলমগীর ক‌বির, সভাপতি সাব্বির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।