শিশুকে বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির এক শিক্ষক

শিশু মিসবাহ উদ্দিন
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে এক শিশুকে প্রাণে বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলোনা শিশুটিকে। একটি মাইক্রোবাস রাস্তায় দাড়ানো মাত্র ৭ বছরের শিশু মিসবাহ উদ্দিনকে ধাক্কা দেয়। শিশুটি পড়ে যায় বাঁকখালী নদীতে। মাইক্রোবাসটি দ্রুত পালিয়ে গেলেও পরে স্থানীয়রা গাড়ীটি আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি পড়ে যাবার পর নদীর পাড়ের লোকজন বাঁকখালীর নদীর চলমান স্রোতের পেরে উঠবেনা জেনে শিশুটিকে উদ্ধারে কেউ আসছে না। এসময় একটি সিএনজি থেকে একজন হঠাৎ নদীতে ঝাপ দিলেন এবং স্রোতের সাথে যুদ্ধ করে শিশুটিকে উদ্ধার করে নদীর পাড়ে তোলেন। আর সেই শিক্ষক হচ্ছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী শাহ্ নুরুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফুরের। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনি নিজ ব্যবসার কাজে কক্সবাজার যাওয়ার পথে সকাল ৯ টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কাউওয়ার খোপ ইউনিয়নের মহেশকুম এলাকায় পৌঁছে দেখতে পায় একটি মাইক্রোবাস এক শিশু ছাত্রকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ধাক্কা দিয়ে বাঁকখালী নদীতে ফেলে দেয়। ঐ সময় নদীর পানি স্রোত অত্যন্ত বেশী। তবে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে থাকলেও কেউ তাকে উদ্ধারের সাহস পায়নি। কিন্তু এই শিক্ষক সিএনজি গাড়ি থামিয়ে নদীর গভীর স্রোতে ঝাঁপ দিয়ে ঐ শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করেন পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে হাসপাতালে প্রেরনে সহযোগীতা করেন। তার এই মানবিক ও সাহসিকতা এখন শুধু এলাকার মানুষের মুখে মুখে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত শিশুটি পূর্ব কাউওয়ার খোপ গ্রামের বাসিন্দা জাফর আলমের পুত্র মিসবাহ উদ্দিন (৭), সে স্থানীয় মরহুম ওসমান সরোয়ার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নার্সারীর শিক্ষার্থী। শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়।
মাওলানা আব্দুল গফুরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাঁকখালী নদীর গভীর স্রোত থেকে কিভাবে সেই শিশু ছাত্রকে উদ্ধার করেছেন সে নিজেই এখন অবাক।
সিএনজি গাড়ীতে থাকা সহযাত্রী মাওলানা আবুল কাশেম জানান, স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার না করে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছিল কিন্তু শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফুর সিএনজি থামিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই দৃষ্টান্ত নজির বিহীন বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।