শ্রেণিকক্ষ সংকটে রুমা সরকারি উচচ বিদ্যালয়

রুমা সরকারি উচচ বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষা অর্জন করছে শিক্ষার্থিরা
একটি কক্ষে একসঙ্গে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থিদের পাঠদান। কক্ষ ভর্তি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। তিন-চারজনের ধারণক্ষমতা এই বেঞ্চেগুলোতে পাঁচ-ছয়জন ঠেলাঠেলি করে চেপে বসেছে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে পিছনে বসা শিক্ষার্থিরা ঝিমাচ্ছে আর খেলছে নিজেদের মধ্যে। সামনে দিক থেকে পাঠদান করছেন এক শিক্ষক। এই ছিল গত শনিবার বেলা ১১টা ৫৬ মিনিট থেকে দুপুর ১২পার মধ্যে বান্দরবানের রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র।
এ প্রতিবেদক রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে এই চিত্র দেখতে পায়। দুই শ্রেণির শিক্ষার্থিদের পাঠদানরত শিক্ষক শৈচিংঅং জানান, বিদ্যালয়ে এখন শ্রেণিকক্ষ সংকট। শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে একসঙ্গে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এটি বেশ কয়েকদিন চলছে। কক্ষ অভাবের কারণে এভাবে পাঠদান ছাড়া কোনো উপায় নেই বলেও জানালেন তিনি।
বিজ্ঞান শিক্ষক হেলাল উদ্দীন বলেন শ্রেণিকক্ষের অভাবে আলাদা করে দলভিত্তিক পাঠদান করা যায়না। তার সাথে চার ধর্মের পাঠদান ও গ্রহন করা সম্ভব হয়না। জাতীয় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হিমশিম খেতে হয়। এখন বিদ্যালয়ে মাল্টি স্টোরিয়েড ভবন অতি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ সংকটে খোলা আকাশের নীচেও পাঠদান চলছে। এনিয়ে সকাল শিফটে মাঠে বসে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের দৃশ্য কয়েকদিন আগে এক শিক্ষক সামাজিক মাধ্যম তার ফেসবুকে ছবিসহ লেখা পোস্ট করেন। এ প্রতিবেদক পোস্টটি সত্যতা অনুসন্ধ্যান করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হ্লাশৈনু মারমা সঙ্গে তার কার্যালয়ে কথা হয়।
হ্লাশৈনু মারমা পাহাড়বার্তা‘কে বলেন, বিদ্যালয়ের মোট সাতটি শ্রেণি কক্ষ আছে। তার মধ্যে একটি কক্ষ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ষ্টোরকক্ষ হিসেবে গত তিন বছর যাবত ব্যবহার করে আসছে। এক প্রশ্নের জবাবে হ্লাশৈনু আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের আগে থেকে ওই কক্ষে মাধ্যমিক বইগুলো রাখা হয়, তাই এনিয়ে কিছু বলছিনা।
তাছাড়া ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ কর্তৃক যে ভবনে সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে সেখানে রয়েছে তিনটি কক্ষ। তার মধ্যে ডিজিটাল ক্লাসের জন্য একটি কক্ষ রেখেছি। বাকি দুইটিও কাজ করছে। ফলে সাময়িকের জন্য শ্রেণি কক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আগামি মার্চের পর শ্রেণিকক্ষ সংকট কেটে যাবে বলে জানালেন প্রধান শিক্ষক হ্লাশৈনু।
এর আগে এ প্রতিবেদক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের স্টোরকক্ষে গিয়ে দেখতে পান,বিদ্যালয়ের এক কর্মচারি কোথাও নিয়ে যেতে বেশ কিছু বই বাছাই করে স্তুপ করছিল। এক প্রশ্নের জবাবে সে জানায়,বইগুলো স্কুলে নিয়ে যাবো, তাছাড়া সে আর কোনো কিছুই বলতে চায়নি। জবাব দেয়নি বইগ্রহনের নথিভূক্তির কথা। বইগুলো শিক্ষার্থীদের এক অমূল্য প্রাণ হলেও ওইসময় এ স্টোরকক্ষ নিয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পায়নি। এতে সরকার বিনামূল্যে এসব বই বিতরণ করলেও তা সঠিকভাবে বিতরণ হয়েছে কিনা, এনিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বারবার কল দিলেও তাঁর মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।