সংকটে লামার রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

লামা উপজেলার রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
লামা উপজেলার রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ ও আসবাসপত্র সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান,পড়ালেখা, খেলাধূলা,সাংস্কৃতিক, বাহ্যিক জ্ঞানসহ শিক্ষামূলক নানা কর্মকান্ডে বিদ্যালয়টি এগিয়ে থাকলেও স্কুল ভবনগুলো সংষ্কার না হওয়ায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। লামা সদর থেকে সাড়ে ৯ কিলোমিটার পথ দূরে রুপসীপাড়া ইউনিয়ন সদরে বিদ্যালয়টি অবস্থিত।
সরজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই রপসীপাড়া ইউনিয়ন সদরে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে সাড়া দিয়ে রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল জলিল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী বিদ্যালয়ের জন্য ২ একর ১৮ শতক জমি দান করেন। পরবর্তীতে পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট দুটি পাঁকা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দেয়। তবে ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করার কারনে কয়েক বছর পর থেকে বর্ষা মৌসুম এলেই অফিস কক্ষসহ প্রত্যেক শ্রেণীকক্ষে ছাঁদ ছুয়ে পানি পড়ে। এতে ভবন দুটি জরাজীর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
অভিভাবকরা বলেন,বিদ্যালয়ে একটি ছাত্রাবাস না থাকায় দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, শ্রেণীকক্ষ সম্প্রসারনে নতুন ভবন নির্মাণ,খাবার পানি ও ছাত্রাবাস সংকট নিরসনসহ নানা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এবং কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা।
লামা উপজেলার রুপসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোবিন বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মচারী সংকট না থাকলেও শ্রেণী কক্ষের তীব্র সংকট রয়েছে। ২০১৫ সালে বিদ্যালয় থেকে ৫০জন শিক্ষার্থী পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে শতভাগ শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৪শ ১১ জন।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জানান, জরাজীর্ন ভবন,শ্রেনীকক্ষ সংকট এ বিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা। বিদ্যালয়ের জরাজীর্ন ভবন দুটি নিয়ে আতংকে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও পানীয় জল সংকট রয়েছে। তাছাড়া সীমানা প্রাচীর, হলরুম, লাইব্রেরী, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ রুম বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও এখানে তা নেই।
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আশপাশে আর কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, এ বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মানও ভালো তবে বিদ্যালয়ে নানা সমস্যা বিরাজ করছে তা সমাধানে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।