সংখ্যালঘুদের সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%96-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%beজঙ্গিবাদের হাত ধরেই এখন ধর্মের নামে বিএনপি-জামায়াত মানুষ হত্যা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বিকেলে গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের জনগণের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংখ্যালঘুদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে গড়ছিলেন, দেশকে তার স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করছিলেন, তখন পরাজিত শক্তি চক্রান্ত করে তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। দেশে অন্ধকার নেমে আসে। তারপর ক্ষমতা দখলকারীরা লুটপাট শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ সরকারের উন্নয়ন-জনসেবায় মানুষ বুঝতে পারে, সরকার জনগণের সেবক। আওয়ামী লীগ তার উন্নয়নের ধারা এখনও অব্যাহত রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ যখন উন্নয়ন-সমৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সেই পরাজিত শক্তি মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে আন্দোলনের নামে হরতাল-অবরোধ করে, সহিংসতা চালায়। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে। তাদের আমলেই দেশবাসী দেখেছিল, মন্ত্রী-এমপিরা কীভাবে সন্ত্রাসীদের মদত দিয়েছে, মানুষের পা ওপরের দিকে বেঁধে মাথা নিচের দিকে রেখে ঝুলিয়ে রেখেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সেই অবরোধ-হরতালের আগুনে ৫০৮ জন মানুষ দগ্ধ হয়েছেন, ৫৮২ স্কুল তারা আগুনে পুড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে পেট্রোল বোমার আগুনে মেরেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনী অফিসারকেও তারা পুড়িয়ে মেরেছে। তারাই এ দেশের ছেলে-মেয়েদের বিপথে নিয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, এখন একটা শ্রেণী হয়েছে, তারা একদিকে ইসলামের নাম নিচ্ছে, আরেকদিকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ চালাচ্ছে। আমাদের সরকার এই ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নয়। জঙ্গিবাদকে কখনো প্রশ্রয় দেবো না।

বিএনপির এক নেতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের এক নেতা বলেছেন, তারা নাকি আন্দোলনের তীর দেখিয়েছেন, নভেম্বরে আন্দোলন দেখাবেন। জনগণ অতীতেও জ্বালা-পোড়াওয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, এবারও রুখে দাঁড়াবে। আন্দোলনের নামে মানুষ খুন ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কোনোদিন জনসমর্থন পাবে না।

প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সর্বতোভাবে সবার। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকেও সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম, সব ধর্মই শান্তির। ইসলামের নামে কোনো ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।