সচল হচ্ছে রাঙামাটি, নির্মিত হচ্ছে বেইলি ব্রিজ

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে ভারী যান চলাচল খুলে দিতে চলছে তোড়জোড়। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরের সাপছড়ি শালবনে সড়কের বিধ্বস্ত অংশের সংযোগে নির্মিত হচ্ছে বেইলি ব্রিজ।

নির্মাণকাজ বুধবার থেকে পুরোদমে শুরু করেছে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দ্রুত কাজ শেষ করে এ সড়ক দিয়ে ভারী যান চলাচল খুলে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুছা।

তিনি জানান, এর আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ব্রিজ ডিজাইন) আবু ইউসুফ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রওশন আরার নেতৃত্বে একটি বিশেযজ্ঞ টিম সড়কের বিধ্বস্ত স্থানটি পরিদর্শন করেন।

এরপর ব্রিজটির ডিজাইনসহ বিস্তারিত প্ল্যান ও স্টিমেট তৈরি করে পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী বেইলি ব্রিজটি স্থায়ীভাবে নির্মিত হচ্ছে। ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ মিটার প্রস্থের নির্মাণাধীন এই বেইলি ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে এ ব্যয় বাড়তে পারে।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ জুন পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সদর উপজেলার সাপছড়ির শালবাগানে ১০০ মিটারব্যাপী রাস্তা ধসে ১০০ ফুট খাদে তলিয়ে বিলীন হয়ে যায়। সড়কটির মোট ৪৫ স্থানে পাহাড়ধসে বিধ্বস্ত হয়েছে।

এছাড়া সড়কের ওপর পাহাড়ধসের মাটি ও প্রচুর গাছপালা উপড়ে পড়ায় সড়কজুড়ে জঞ্জালের সৃষ্টি হয়। ওদিন তাৎক্ষণিক জঞ্জাল সরাতে গিয়ে সদরের মানিকছড়ি সেনা ক্যাম্পের সামনে দুই কর্মকর্তাসহ প্রাণ হারিয়েছেন ৫ সেনা সদস্য।

পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঘটনায় চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে টানা ৮দিন অপসারণ ও মেরামত কাজের পর ২১ জুন থেকে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে হালকা যান চলাচল শুরু হয়। ভারী যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। এ জন্য সড়কের বিধ্বস্ত অংশের সংযোগে চলছে একটি বেইলি ব্রিজের নির্মাণকাজ। কাজ সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুছা।

উপ-সকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুছা বলেন, সড়কের শালবনে ১০০ মিটারের বিধ্বস্ত রাস্তায় মাটি ও বালির বস্তা ভরাট করে ওই অংশের ওপর দিয়ে হালকা যান চলাচল উপযোগী করা হয়েছে। ভারী যান চলাচল উপযোগী করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে সড়কের বিধ্বস্ত অংশের উত্তর পাশে স্থায়ীভাবে একটি বিইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নির্মিত হচ্ছে সম্পূর্ণ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে। এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ভারী যান চলাচল খুলে দিতে চেষ্টা করা হবে।

এদিকে, পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষতির কারণে তিন সপ্তাহের পরও রাঙামাটি-মানিকছড়ি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

জেলার রাঙামাটি-কাপ্তাই, ঘাগড়া-চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া-বান্দরবান, রাণীরহাট-কাউখালী, বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু এবং বাঙালহালিয়া-রাজস্থলী সড়কে হালকা যান চলাচল করলেও ৫টি সড়কই মারাত্মক ঝুঁকিতে। ফলে বন্ধ রয়েছে সরাসরি ভারী যান চলাচল।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকেশৗলী এমদাদ হোসেন বলেন, পাহাড়ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ জেলার মূল ৬টি সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার এসব সড়কের ১৪৫ স্থানে ও ৭৯ স্পটে ধস হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মেরামত ও পুনর্নির্মাণ কাজ নিয়ে তোড়জোড় চলছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সদরের সাপছড়ির শালবনে বিধ্বস্ত স্থানে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ ছাড়াও রাঙামাটি-মানিকছড়ি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের ৮ কিলোমিটার স্থানে কুতুছড়ি খামারপাড়া থেকে কেচিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারব্যাপী রাস্তার মেরামত কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

তিনি আরও বলেন, সপ্তাহের পর ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রাঙামাটি-কাপ্তাই, ঘাগড়া-চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া-বান্দরবান, রাণীরহাট-কাউখালী, বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু এবং বাঙালহালিয়া-রাজস্থলী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতেও মেরামত কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সূত্র: জাগোনিউজ২৪.কম

আরও পড়ুন
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।